৪ বছর পূর্ণ হল সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের;কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৪ PM, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

ডেস্ক রিপোর্ট : আজ ১১ ফেব্রুয়ারী। চার বছর পূর্ণ হল সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের । কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার পরও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার চার বছরের মাথায় এসে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, এখনও সাগর সরোয়ারের ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপের সন্ধান করে যাচ্ছেন তারা।

রাজধানীর রাজাবাজারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে এই ল্যাপটপটি খোয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে পারলেই এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা অনেকটা সহজ হবে। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন সাগর সরোয়ারের মা সালেহা মনির। আর র‌্যাবের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান। তবে সাগর-রুনী হত্যা মামলার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বহু বলেছি। আর এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। সরকারের অন্য মন্ত্রীদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন।’

এদিকে ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর সরোয়ারের মা সালেহা মনির মঙ্গলবার বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না। এর সঙ্গে উচ্চ মহলের হাত রয়েছে। চার বছর শেষ হয়ে গেল বিচার পাইনি, এখন আর এ বিচার চাই না। বিচার আল্লাহর কাছে দিয়ে রেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা নেই, পাশাপাশি প্রশাসনও নীরব। যে এ কাজটা (হত্যা) করেছে, সে সরকারের চেয়েও প্রভাবশালী! তা না হলে কে এমন লোক যার কথা প্রকাশ করছে না সরকার? নিশ্চয়ই সরকারের কাঁধের ওপর রাইফেল ধরা আছে।’
মামলার বাদী মেহেরুন রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘মামলার তদন্তে আমরা হতাশ। এ মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব সদর দফতরের উপপরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মহিউদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘মামলার তদন্ত এখনও চলছে। কয়েকটি বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। এছাড়া হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপের তথ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ল্যাপটপটি অন করা হলেই আমরা তার লোকেশন জানতে পারব। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই আমরা অপেক্ষা করছি।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ওরফে সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় মর্মান্তিকভাবে খুন হন।

এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর ন্যস্ত করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে এ হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন নিহতদের রাজাবাজারের বাসার দারোয়ান এনামুল, অপর এক দারোয়ান পলাশ ওরফে রুদ্র পাল, রুনির বন্ধু তানভীর রহমান, সন্দেহভাজন ডাকাত রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও সাঈদ। এদের মধ্যে দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর রহমান ও মাসুম মিন্টু বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

এদিকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ২ মার্চ ওই আসামির জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এছাড়া ১৮ জানুয়ারি মামলার আসামি বকুল মিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :