হাসপাতালের জন্ম থেকে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ; চিকিৎসক না থাকায় নষ্ট হচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জমাদি

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪৪ AM, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক ভবন ও সরঞ্জামসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে হচ্ছে না কোন অপারেশন। ব্যবহার না হওয়ায় জরাজীর্ন হয়ে নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটার রুমের মুল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম।
জানা গেছে, জেলার আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারী ভাবে গড়ে উঠে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নবম সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পরেই এ হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি অত্যাধুনিক ভবন নির্মান করা হয়। সেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অপারেশন থিয়েটার রয়েছে।
৫০ শয্যায় উন্নীত করায় জনবলও বাড়ানো হয়েছে। তবে তা কাগজ কলমে। বাস্তবে সৃষ্ঠিলগ্ন থেকে ৫টি বিষয়ের জুনিয়র কনসালটেন্ট ৫টি পদের সবগুলো শুন্য রয়েছে। ফলে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার দেয়া হলেও তা ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। রোগীর অপারেশন করতে অবস ও সার্জারী চিকিৎসক আবশ্যক। কিন্তু অবস ও সার্জারী কনসালটেন্ট পদ থাকলেও তা পুরন হয়নি। সাম্প্রতিক সময় সার্জারীর উপর বিশেষ প্রশিক্ষন সম্পন্ন একজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করেছেন। তিনি ছোট ছোট অপারেশন গুলো সম্পন্ন করার ইচ্ছা করলেও কনসালটেন্ট অবস না থাকায় তা হচ্ছে না। অপারেশন থিয়েটার রুমে অবস মেশিন রয়েছে, নেই অবস চিকিৎসক। ফলে জন্ম থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে  অপারেশন থিয়েটার। ব্যবহার না করায় জরাজীর্ন হয়ে নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটার রুমের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট  আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারী, মেডিসিন, অবস ও গাইনীসহ ৫টি বিষয়ের জুনিয়র কনসালটেন্ট ৫টি পদের সবগুলো শুন্য। ফলে বাধ্য হয়ে অপারেশনের রোগীকে রেফার্ড করতে হচ্ছে। সরঞ্জামাদিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও কনসালটেন সার্জারী ও কনসালটেন অবস না থাকায় ফোঁড়া, হাইড্রোসেল, হার্নিয়ার মত ছোট ছোট অপারেশনের রোগীকে সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তবে কনসালটেন্ট সার্জারীর প্রশিক্ষিন প্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফুন নাহার যোগদানের পর থেকে অপারেশন থিয়েটার রুম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কনসালটেন্ট অবস পদটি শুন্য থাকায় ছোট ছোট অপারেশন করার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। কনসালটেন্ট পদগুলো পুরনের জন্য প্রতিমাসে মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হলেও সুফল আসছে না।
উপজেলার গোবর্দ্ধন চর থেকে আসা আব্দুল মজিদ ক্ষোভে রেগে গিয়ে বলেন, এ হাসপাতালে ফোঁরা কাটার অস্ত্র ও মেশিন আছে, খালি ডাক্টার নাই। এই জন্য রেফার করে দিলো। এখন ক্লিনিকে গিয়া টাকা দিয়ে কাটি নিতে হবে। সরকার তাহলে এত টাকা দিয়ে হাসপাতাল বানেয়া কি করিল? যদি ডাক্টার না থাকে। সেখানে হাসপাতাল করি লাভ কি??
এ করুন চিত্র শুধু আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়। লালমনিরহাটের বাকী ৩টি (পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কনসালেন্টন পদ শুন্য থাকায় অপারেশন থিয়েটার রুম ব্যবহার হচ্ছে না। জেলায় সরকারী ভাবে শুধু মাত্র সদর হাসপাতালের অপারেশন করা হচ্ছে। বাকী ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার রুম সৃষ্ঠিলগ্ন থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা বলতে শুধু মাত্র জ্বর, পাতলা পায়খানা আর পুলিশ কেচ। আন্তঃবিভাগে পুলিশ কেচের রোগীতে পুর্ন থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীরা সিজারসহ ছোট বড় সকল ধরনের অপারেশনে ক্লিনিকে ছুটছেন। সরকারী চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে রোগীরা ক্লিনিক নির্ভর হচ্ছেন। গুনছেন মোটা অংকের টাকা। গরিবরা জমি বিক্রি করে প্রসুতি মায়ের সিজারের বিল পরিশোধ করছেন।
পাটগ্রামের বাউরা গ্রামের আজিয়ার রহমান বলেন, হাইড্রোসিলের ব্যাথায় পাটগ্রাম  হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এ হাসপাতালে অপারেশনের চিকিৎসক নেই। তাই তারা অপারেশন করার কথা বলে রেফার্ড করে দিয়েছেন লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে। বাধ্য হয়ে বাহিরে ক্লিনিকে ৭ হাজার টাকা খরচ করে অপারেশন করেছি।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়  জানান, ‘বিশেষ করে সার্জারী ও অবস কনসালটেন্ট না থাকায় জেলার ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি প্রায় জন্মলগ্ন থেকে বন্ধ রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার রুমে সব কিছু দেয়া আছে। প্রয়োজন শুধু অবস ও সার্জারী কনসালটেন্ট। জনবল চেয়ে মন্ত্রনালয় ও অধিপ্তরে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হলেও কাজে আসছে না।’
বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :