রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে নতুন করে দুইজন করোনায় আক্রান্ত; আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১১১ এই পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা নয় -শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় গলায় ফাঁস দিলো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান চালালে রাখতে হবে থার্মোমিটার-জীবানুণাশক ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপনে টাস্কফোর্স কমিটির সভা ফুলবাড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দিলেন এমপি ফুলবাড়ীতে লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ কল্পে দিন ব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ আটোয়ারীতে কৃষকের মাঝে কোম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিন প্রদান গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রা শুরু করলো লালমনি এক্সপ্রেস

হারিয়ে যেতে বসেছে গরীবের এসি ঘর খ্যাত ‘মাটির ঘর’ !

সংবাদকর্মীর নাম
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০
  • ২১২ পঠিত
matir-ghor

হিমেল তালুকদার, ঠাকুরগাঁও : আধুনিকতার উৎকর্ষতায় আর কালের আবর্তে বাংলার ঐতিহ্যবাহি মাটির ঘর এখন বিলুপ্তির পথে। ইট, বালি আর সিমেন্টের আধিপত্যে হারিয়ে যেতে বসেছে “এসি খ্যাত” মাটির বাড়ির আভিজাত্য।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের সদরে অবস্থিত আদিবাসী সাঁওতাল পাড়ায় গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় সেই ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর গুলো দেখলে। যেন মাটির ঘরের ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব শুধু তাদের ওপরেই দেওয়া হয়েছে।

এই আধুনিক সময়ের সাথে আর দশজনের মত পরিবর্তনের ছোঁয়া পড়েছে আদিবাসীদের গায়েও । তারাও সভ্যতার সকল সুবিধার সাথে পরিচিত । কিন্তু এখনও এই মাটির ঘর ব্যবহারে কারণ হিসেবে তাদের মায়া জড়ানো সদ ইচ্ছাকেই ধরা যেতে পারে ।

আদিবাসী বিলিয়ম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বাপ দাদাদের মাটির ঘরেই থাকতে দেখেছে তারা । তাঁরাও অনেকটাই অভ্যস্ত । তাছাড়া এই মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি কোঠাঘরের বিশেষত্ব আছে। আর তা হল এসব ঘরে প্রচন্ড গরমের সময় ঠান্ডা এবং শীতের সময় গরম অনুভূত হয়।

ঠাকুরগাঁও সদরের আদিবাসী পাড়ায় ঘুরলে এখনও এমনই কয়েকশ মাটির তৈরি ঘর চোখে পড়বে। মনে হবে যেন অন্য কোনো জগতের অংশ ।

জানাযায়, এক সময় আদিবাসী পাড়ার মত ঠাকুরগাঁও জেলার অন্য সব গ্রাম গুলোতে অধিকাংশ মানুষ এটেল মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি ঘরেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। এলাকায় বসবাসের প্রথম দিকে অধিকাংশ ছন বা খর দিয়ে ঘরের ছাওনি দিতেন। পরে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা টিন দিয়ে ছাওনি দিতে শুরু করেন। এটেল মাটির সাথে পাটের টুকরো এবং তাতে তুষ মিশিয়ে মন্থন করে প্রায় দুই সপ্তাহ পর তা দিয়ে প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল তৈরি করে ঘর নির্মান করা হয়। এতে মজুরী বাবদ খরচ হয় প্রায় তিন হাজার টাকা। তাছাড়া পাট ও তুষ কিনতে আরও প্রায় ৩ থেকে ৪শ টাকা খরচ হয়।

মাটির বাড়িতে বসবাসকারী হিমেল কেরকেটা তার নিজের হাতে বাড়িটি তৈরির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথোপকথনে জানান, বাড়ি তৈরিতে এঁটেল মাটি কাদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালের উপর কাঠ বা বাঁশের চাল তৈরি করে খড়-কুটা, গোলপাতা, টালী, অথবা ঢেউটিন দিয়ে ছাওয়া হয় । মাটি কুপিয়ে ও পানি দিয়ে কাদায় পরিণত করার পদ্ধতিকে জাব বলা হয়। জাব কেটে তা সুচারুভাবে গেঁথে ভাজে ভাজে তৈরি করতে হয় দেয়াল।

দেয়ালের একেকটি ভাজের পুরত্ব তিন থেকে চার ফুট। এভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি ভাজ শেষ হবার পর দেয়ালের উচ্চতা দাঁড়ায় ১৫-১৮ ফুট। যিনি মাটির চাপ গেঁথে দেয়াল ও বাঁশ দিয়ে চাল তৈরি করেন তাকে ঘরামি বলা হয়। চারিপাশে বারান্দা বিশিষ্ট ঘরকে আটচালা এবং তিনপাশে বারান্দা বিশিষ্ট ঘরকে সাতচালা ঘর বলা হয়। গৃহিণীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আলপনা একে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে থাকেন । শৈল্পিক আলপনায় ফুটে উঠে নিপুন কারুকার্য।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে ইট-সিমেন্টের ঘর নির্মাণে এখন উৎসাহী হচ্ছে মানুষ। এক সময় ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন গ্রামে অনেক পরিবার মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও প্রবল বর্ষণে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে এখন কাচা ঘর ফেলে পাকাঘর নির্মাণে করছেন সকলে ।

জেলার গড়েয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের আরজু শিকদার বলেন, তাদের বাড়িতে মাটির তৈরি কয়েকটি ঘর ছিল। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সেইসব ঘর ভেঙ্গে এখন টিনের ঘর তৈরি করতে হয়েছে ।

ঠাকুরগাঁওয়ের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্দা আব্দুর রাজ্জাক, মো. জাকির হোসেন, আচকা গ্রামের ফজলু মাস্টার সহ অনেকেই জানান, তাদের বাব-দাদারাও মাটির তৈরি কোঠাঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে মানুষের আর্র্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চোর-ডাকাতের উপদ্রব হীনতার কারণে লোকজন কোঠা ঘরের পরিবর্তে টিনের বা কেউ কেউ দালান দিয়েও বসত বাড়ি তৈরি করছেন।

হিমেল/বিডি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর :

আমাদের সাথে থাকুন

Facebook Pagelike Widget

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৭,১৫৩
সুস্থ
৯,৭৮১
মৃত্যু
৬৫০

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,১৯৬,৪১৬
সুস্থ
২,৭৬০,৭২২
মৃত্যু
৩৭১,৫৯৫

Archive Calendar

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ঠাকুরগাঁওয়ের খবর

কারিগরি সহযোগিতায়: অন্তর রায় প্রিন্স
You cannot copy content of this page