সাহেবগঞ্জ “ইক্ষু খামারে” মৎস্য প্রকল্পের নামে কোটি টাকা আত্মসাত!

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫২ AM, ১৫ জুলাই ২০১৬

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনি কলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চাপিয়ে দেয়া ‘ফিস ফার্মিং উইথ স্পেশাল এ্যানফিসেস এন্ড গুড এ্যাকোয়া কালচার প্রাকটিসেস’ প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মহা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা ব্যয় নিধারন করা হয়েছে বলে রংপুর চিনিকল সূত্র জানায়। এদিকে বেশ কয়টি পুকুর নতুন করে খনন করায় আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানাগেছে, প্রায় ৩০কোটি টাকা লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে জৌলুস হারিয়ে জরাজির্ন রংপুর চিনি কলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে চিনি কলের নিজস্ব সম্পত্তি কাজে লাগিয়ে আয় বৃদ্ধি কল্পে একটি প্রকল্প গ্রহন করে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের বর্তমান চেয়ারম্যানএ কে এম দেলোয়ার হোসেন। তিনি রংপুর চিনি কলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে এসে মজাপুকুর সংস্কার ও খননের কাজ উদ্বোধন কালে দেয়া বতৃক্তায় উপস্থিত চিনি কলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ভেবেছিলেন দেরীতে হলেও একজন সৎ ন্যায় নিষ্ঠাবান কর্মক্ষম প্রতিভাবান চেয়ারম্যান পেয়েছেন তারা। যার নেতৃত্বে কর্পোরেশনের সকল গ্লানী ধুয়েমুছে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান গুলো।

শুরুতেই ৮টি পুকুর সংস্কার ও পুনঃ খননের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা দরে গোপন কোটেশন ও টেন্ডারের মাধ্যমে ২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে পাবনা জেলার ইশ্বরদী উপজেলার মেসার্স দাশুরিয়া ইকুপমেন্ট কেয়ার ও মেসার্স তাহা এন্টারপ্রাইজ ,দাশুরিয়া, ইশ্বরদীকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। আর এ কার্যাদেশ প্রদানে মূখ্য ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও তার দপ্তরের চীফ টেকনিক্যাল সার্ভিসেস (চীফ টি.এস) কামরুজ্জামান। চীফ টি.এস কামরুজ্জামান  এ প্রকল্পের অলিখিত পিডি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি মাঝে মধ্যেই ঢাকা থেকে রংপুর চিনিকলের গেস্ট হাউসে এসে রাত্রী যাপন করেন। তার কথা মতোই প্রকল্পের কাজ কর্ম চলছে।

গোপন কোটেশন ও টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২টি চীফ টি.এস কামরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজন বলে জানাগেছে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের কোন পরিচালক (পিডি) না রেখে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রকল্প ইনচার্জ করা হলেও ফিস ফার্মিং উইথ স্পেশাল এ্যানফিসেস এন্ড গুড এ্যাকোয়া কালচার প্রাকটিসেস প্রকল্পের ব্যাপারে তার পরিপূর্ন ধারনা নেই।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের প্লানিং সেকসন থেকে এ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে করা হয়নি কোন অবহিত করন সভা। ফলে প্রকল্প প্রনয়ন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য , বাজেট ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রয়েগেছে ঘোর অন্ধকার।
এব্যাপারে মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আওয়াল জানান, ‘ ফিস ফার্মিং উইথ স্পেশাল এ্যানফিসেস এন্ড গুড এ্যাকোয়া কালচার প্রাকটিসেস ’  নামে ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা ব্যয় নিধারন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২৬টি পুকুর খনন ও সংস্কার, ফলজ বৃক্ষ রোপন, রাস্তা ও কটেজ নির্মান এবং বিদ্যুতায়ন করা হবে।
ইতিমধ্যে ২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তমির বিল পুকুর এবং পোস্ট অফিস পুকুর সংস্কার ও খনন বাবদ ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা বিল প্রদান করা হলেও চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  একটি বিল পরিশোধের কথাস্বীকার করলেও অপরটি অস্বীকার করে বলেন, প্রক্রিয়াধীন আছে।

এদিকে পুকুর খননের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অভিজ্ঞরা জানান ওই দুই পুকুর খননে ৮লক্ষ টাকা মত খরচ হতে পারে। অপর দিকে মাটির বদলে কলোনী পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল মোমিন বুলু বোয়ালিয়া মৌজায় তার নিজস্ব প্রায় ৪বিঘা জমি ভরাট করে নিলেও ওই পুকুর খনন বাবদ বিল উত্তোলনের প্রচেষ্টা বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিনি কলের একটি সূত্রে জানিয়েছে।

এব্যাপারে চীফ টেকনিক্যাল সার্ভিসেস (চীফ টি.এস) কামরুজ্জামানের সাথে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় কর্মরত অবস্থায় যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ অস্বীকার করে বলেন, রংপুর চিনি কলের এমডি’র সাথে সাক্ষাৎ করুন উনি সব তথ্য দিতে পাবেন।

এসময় সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :