সাংবাদিকরা অযথা আসে ছবি তুলে ঝামেলা পাকান; পকেট ভারী করান ইঞ্জিনিয়ারদের

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৪ PM, ১০ এপ্রিল ২০১৭

এ.এইচ আকাশ, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি : সড়ক নির্মান(গার্ডার ব্রীজ) কাজের দূর্ণীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে সরজমিনে গেলে ঠিকাদারের লোকজন বলেন “সাংবাদিকরা অযথা আসে ছবি তুলে ঝামেলা পাকান, কাজের কাজতো কিছুই হয় না। সংবাদ করে অযথা আমাদের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারদের পকেট ভারী করান“।

আপনারা সংবাদ করলে তো অনিয়মটা আর সংশোধন হয় না। তার চেয়ে আপনি এ সংবাদ করলে আমরা যে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করবো তার থেকে দুই হাজার টাকা আপনি নিয়ে যান এগুলো সংবাদ করার দরকার নেই। কথাগুলো বলছিলেন-ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া হাট থেকে পশ্চিম বনগাও সড়কের মাঝে ২ কোটি ১৭ লক্ষ ৫হাজার ৩৫৯ টাকা বরাদ্দে ৬০ মিটার দুরত্বের আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মানধীন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জামান ট্রের্ডাসের কতিপয় ব্যক্তি। তবে তার নাম পরিচয় জানার চেষ্টা করলেও তিনি কোনভাবেই তা প্রকাশ করেন নি।

অভিযোগ রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর(এলজিইডি) স্থানীয় সড়ক ও ব্রীজ নির্মানে অনিয়ম চরমে পৌছালেও সেদিকে নজর দেয় না সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ। ঘুষ দূর্ণীতির ছত্রছায়ায় অনিয়ম দূর্ণীতি বেড়েই চলেছে।

স্থানীয়রা জানায়, এই ব্রীজ নির্মানে চরম অনিয়ম করা হচ্ছে, এখানে মাটি থেকে ১ম সিসি ঢালাইয়ে অনিয়ম করা হয়েছে, এছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের খুয়া ও সিমেন্ট। এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে কম মূল্যের দুইটি কোম্পানির সিমেন্ট।

সিমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ল্যাব টেস্ট আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ঠিকাদারের কোন লোকই এ বিষয়ে মুখ খুলেননি,এমনকি তাদের কার কি দায়িত্ব নিয়ে এখানে কাজ করছে সে পরিচয়টাও এ প্রতিবেদকের কাছে কোনভাবেই প্রকাশ করে নি। অবস্থা এমন দেখে বুঝা যায় এ ব্রীজ নির্মানে অনিয়মের পাহাড় গড়া হয়েছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি উপজেলার খুটিয়াট্রলি গ্রাম থেকে বনগাও গ্রামের দিকে ১ কিঃমিঃ সড়কেও চরম অনিয়মের মধ্যে দিয়ে নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক নির্মানের দিন রীতিমত ঐ সড়কে দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিজে থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। কাজ বুঝে নেওয়ার সময় প্রকৌশলীর ওযার্ক সহকারীকে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-প্রকৌশলী কোথায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্যার দিনাজপুরে আছেন। কাজ কে বুঝে নিবে প্রশ্নে বলেন, কেন আমিতো আছি। এ রাস্তায়ও হয়েছে অনিয়মের পাহাড়। এ সড়কের দু-ধারের রেলিংয়ের ইটে করা হয়েছে অনিয়ম-জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এছাড়াও সম্প্রতি সন্ধারই আলীর ভাটা হতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সেলিনা জাহান লিটার গ্রামের বাড়ীর নির্মান করা সড়কে বালুর বদলে মাটি ব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলে দায়সারা ভাবে ব্যবস্থা নিয়ে মাটির উপরে সামান্য বালু দিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অর্থনেতিক লেনদেনের মধ্যে কাজ চালিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়।

এভাবে অনিয়মের মধ্যে সড়কগুলো নির্মান করে বছর না পেরুতেই শুর হয় সড়কের ভাঙ্গন,উঠে যায় সড়কের বিটুমিন। তখন পথচারীরা চলাচলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে। ঠিক এভাবেই রাণীশংকৈলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ হচ্ছে।

সরকার যখন দেশের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর, ঠিক সে সময়ে অসাধু প্রকৃতির লোকজন উন্নয়নের নামে মাত্র কাজ করে সিংহ ভাগ টাকা আত্মসাৎ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সহ সংশ্লিষ্ট কর্তাবাবুরা।এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে উপজেলার সুধী মহল।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :