সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষক কার্ড পেতে হয়রানি!

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩১ AM, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫

নরসিংদী সংবাদদাতা : অবাধ,স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা, নির্বাচন কমিশনের কাজ। পুরো নির্বাচন কমিশনের সমস্ত আইন-কানুন,আর ভাবনার বিষয় হচ্ছে দেশের জনগণকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া। কিন্তু সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষন কার্ড নিয়ে নরসিংদীর জেলা নির্বাচন কমিশনারের চলে ব্যপক নাটকীয়তা। সাংবাদিকদের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক কার্ড পেতে দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

জানা যায়, দেশের প্রথম শ্রেণির প্রিন্ট,ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ২৪ ডিসেম্বর সাংবাদিক পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের মধ্যে পর্যবেক্ষক কার্ড প্রাপ্তদের জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে একটি তালিকা দেয়া হয়। তার মাঝে আবেদন ইস্যু হয়নি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সরকার আদম আলী, দৈনিক কালেরকন্ঠ ও দেশ টিভির সুমন বর্মণ, দৈনিক সকালের খবরের মো. সেলিম মিয়া, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সঞ্জিত সাহা, দৈনিক যুগান্তের বিশ্বজিৎ সাহা, চ্যানেল আইয়ের সমুন রায়সহ প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের। এক পর্যায় সাংবাদিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে নরসিংদী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নিকট জানতেন চাইলে তিনি বলেন এনএসআই এসবি রিপোর্টিং এর ভিক্তিতে আবেদনকৃত সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান এর বরাবর এ বিষয়টি জানানো হলে কয়েজন সাংবাদিককে পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদান করা হয়।

এদিকে দেখা যায় নাম মাত্র সাংবাদিকদের রিটার্নিং অফিস কর্মকর্তারাদের যোগসাজসে পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিককে কার্ড পাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমাদের ডিসি ও নির্বাচন কমিশনারের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে কার্ড পেতে কোন সমস্যা হয়নি।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখা যায় রিটার্নিং অফিসের দরজায়। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনেক সাংবাদিক অপেক্ষা করছে কিন্তু পাত্তা মিলেনি রিটার্নিং অফিসারের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বির ৩৭ জনের একটি লিস্ট রেখে বুধবার সকাল ৭ সাড়ে টার ভিতরে জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসারে সাথে আলাপ করে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষক কার্ড দেয়ার কথা দিয়ে বিদায় করেন।

সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা মনে করেন নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অস্বীকার করার পথ নেই। সাংবাদিকরা তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে নির্বাচনকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে সংবাদ পরিবেশন করতে পারলে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ভূলতার সাথে নির্ধারণ করা যায়। তাই সাংবাদিকদের সর্বক্ষেত্রে হয়রানির ঊর্ধ্বে রেখে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :