সরকারিকরণ থেকে বঞ্চিত রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ;প্রধানমন্ত্রীর সূদৃষ্টি কামনা এলাকাবসীর

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৬ PM, ২৯ জুলাই ২০১৬

মোঃ আনোয়ার হোসেন আকাাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাও জেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজটি সরকারি করণ করা হয়নি। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি কলেজটি সরকরি করণ করা হউক। রাণীশংকৈলের প্রাণ পুরুষ মরহুম আলী আকবর এমপির স্বপ্নের ফসল প্রতিষ্ঠানটি। ৪৪ বছর ধরে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির স্বাক্ষর বহন করছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে। স্বাধীনতা যুদ্ধের ১ বছর পর ১৯৭২ সালে রাণীশংকৈল মহাবিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৯০ সালে ডিগ্রী পাশ’র অনুমতি পাওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ রাখা হয়। শক্ত মজবুত সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা রয়েছে কলেজটি। এই কলেজের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র কলেজের অবস্থান নিয়ে উপজেলার এক অপরূপ শোভা বর্ধন করে আছে। কলেজের খেলার মাঠ সকলের জন্য উন্মুক্ত। খেলাধুলা, সংস্কৃতি কর্মকান্ডে এলাকার বিনোদনের চাহিদা পূরণ করছে ওই মাঠ। তবে খেলার মাঠটি আরো পরিচর্যার দরকার রয়েছে। কলেজ চত্বরে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আধুনিকতায় ছোঁয়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এটি নির্মান করা হয়েছে। শহীদদের স্মৃতিটুকু ধরে আছে এই শহীদ মিনার। শিক্ষার আলো ছড়াতে মরহুম আলী আকবর এমপির উদ্যোগে ৫ একর .০৬ শতাংশ জমিতে রাণীশংকৈল মহাবিদ্যাালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ তোয়াহা’র পরিবারের লোকজন কলেজটির জমি দাতার গৌরব অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠা কাজে মরহুম মিজানুর রহমান চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ মুনসুর আলী, ইমরান আলী, আজিজুর রহমান চেয়ারম্যান, হামিদুর রহমান চৌধুরীসহ অনেক জ্ঞানী গুনিজন সহযোগিতা করেন। উপজেলার শিক্ষা সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিচ্ছে অত্র কলেজটি। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে অনার্স সহ বিভিন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে এর পরিচিতি সর্বত্রই। ঐতিহ্যের বাহক এই কলেজটিকে শতভাগ পাশের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। কলেজ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যচ্ছেন আশারূপ ফলাফলের জন্য। কলেজের কাঠামোগত অবস্থান সুদৃঢ় ও সুনিপুণ পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বৃক্ষ পরিবেষ্টিত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ছাড়াও রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। খেলার মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী রয়েছে। বিজ্ঞানাগারে যন্ত্রপাতি কিছু সংকট থাকলেও তা পুরণের পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৮৪০ জন। শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে একটি ভবন ইতোমধ্যে নির্মান করা হয়েছে। আরো ভবন নির্মান কাজ ও পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্যানিটেশন আর আসবাবপত্রের উন্নয়নে আধুনিকতার ছোয়া রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমান বই পত্রে সজ্জিত পাঠাগার । কলেজটিতে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, ব্যবস্থাপনা, দর্শন, হিসাব বিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাস এই ৭টি বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। আবেদিত রয়েছে  ইতিহাস, সাধারণ ইতিহাস, অর্থনীতি বিষয়ে। এছাড়াও বিএনসিসি, স্কাউটসহ নবীন বরণ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ পালিত হয়। কলেজ সরকারি করণ হওয়ার ১৭টি শর্তাবলির সঠিক পরিপূর্ণতা রয়েছে।

রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজকে সরকারি করনের দাবিতে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গভর্নিং বডির সদস্য , সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসির প্রাণের দাবিতে মানব বন্ধন, র‌্যালী অনুষ্ঠিত ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নাহিদ হাসানের হাতে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।

রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও- ৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ইয়াসিন আলী বলেন, রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ শিক্ষার মাইল ফলক তৈরী করেছে। অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য আর সফলতার ধারক ও বাহক অত্র প্রতিষ্ঠানটি। পরিতাপের বিষয়, কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়নি। কলেজটিকে সরকারি করনের জোর দাবি জানান তিনি।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :