শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল !

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০২ PM, ৩১ জানুয়ারী ২০২১

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : তীব্র ঠান্ডা ও কনকনে শীতে কাঁপছে রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল বাতাসের কারণে অনুভুত হচ্ছে তীব্র শীত। এর প্রভাবে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, আর সকাল ১০টায় লালমনিরহাটে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রবিবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ আবহাওয়া ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত থাকবে।

এছাড়াও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডিমলায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দেশের সর্বোত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সোমবার দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে এবং সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়াও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুর নগরীসহ জেলার আট উপজেলা ও বিভাগের নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলাসহ উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমুল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে শীতার্ত মানুষ।

সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা।

শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শীতে বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু, সবজিখেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুরের গঙ্গচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন চরের বাসিন্দারা জানান, দুদিন থেকে প্রচুর শীত আর কনকনে ঠান্ডা পড়েছে।

কাউনিয়ার চর প্রাণনাথ গ্রামের আতাউর রহমান, চর চতুরা গ্রামের আব্দুল মমিন ও পীরগাছার চর ছাওলার এনায়েত মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, এর আগে এরকম শীত দেখা যায়নি। অন্য এলাকার চেয়ে তিস্তার পাড়ে প্রচুর শীত।

অন্যদিকে অব্যাহত তীব্র শীতের কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের আট জেলা হাসপাতাল এবং ৫৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা হাসপাতালে ভিড় করছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা বেশি ভর্তি হচ্ছেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দিতে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :