শিশু ওয়ার্ডের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে হাসপাতালের বর্জ্যের পোড়া গন্ধ ও ধোঁয়া

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৫ PM, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিজস্ব সংবাদদাতা : হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পেছনের ফাঁকা জায়গায় পোড়ানো হচ্ছে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। ইনসিনেটর (একটি বদ্ধ ঘরের মতো, ওপরে চিমনি থাকবে, যার ভেতর বর্জ্য ধ্বংস করে ফেলা হয়) সচল না থাকায় হাসপাতালের খোলা জায়গায় পোড়ানো হচ্ছে হাসপাতালের সকল বর্জ্য । ফলে বর্জ্যের পোড়া গন্ধ-ধোঁয়া শিশু ওয়ার্ডের অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা একটি জেলা শহরের সরকারি হাসপাতালের চিত্র।নাম তার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল।এ চিত্র দেখলে একজন সুস্থ্য মানুষ নিমিষেই অসুস্থ্য হয়ে পড়বে।কিন্তু হাসপাতাল কতৃপক্ষের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।কতৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় হতবাক সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পেছনে কয়েক ফুট দূরে ইনসিনেটরের পাশের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা রক্তের ব্যাগ, সিরিঞ্জ, বিভিন্ন ওষুধের খালি কৌটা, পলিথিন, রক্ত-পুঁজ, তুলা, গজ ব্যান্ডেজ এবং অস্ত্রোপচারের পর মানব দেহের অংশসহ নানা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে। বর্জ্যের পোড়া গন্ধ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতাল এলাকায়।

এ সময় কথা হয় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে আসা সদর উপজেলার পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামের সাফিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত শনিবার চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নিয়ে এসে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় বিছানা পাততে বাধ্য হন। কিন্তু বর্জ্যের ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধে বারান্দায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক বছরের মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসা সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সরলা রানী বলেন, হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে মেয়ের শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে অন্য ওয়ার্ডের ভেতরে নিতে হয়।

সদর উপজেলার গড়েয়া গ্রামের কৃষক ইসরাফিল আলম বলেন, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসার জন্য তিন দিন থেকে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। সকালে যখন হাসপাতালের বর্জ্যগুলো পোড়ানো হয়, তখন এর দুর্গন্ধে শিশু বিভাগের বারান্দায় থাকা যায় না। আর যদি বাতাস থাকে, তাহলে এ দুর্গন্ধ ওয়ার্ডের ভেতরেও চলে আসে।
হাসপাতালের পাশের সরকারপাড়ার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম বলেন, মাঝেমধ্যে হাসপাতালের বর্জ্যের পোড়া গন্ধে বাড়িতে টেকা যায় না।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, ক্ষতিকর ও জীবাণুযুক্ত বর্জ্য পোড়ানোর গন্ধে শিশুসহ সব বয়সের শ্বাসকষ্টের রোগীদের কষ্ট আর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ কাজ করছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে বর্জ্যগুলো ধ্বংস করে ফেলার আধুনিক ব্যবস্থা প্রথম থেকে কার্যকর নয়। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইনসিনেটর পদ্ধতি চালু হলে এই অবস্থা কেটে যাবে।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :