শহীদ বুদ্ধিজীবিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করল ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫৭ PM, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।১৯৭১ সালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলো আজকের এই দিনে।দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব।

এ উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব চত্বরে বুদ্ধিজীবি স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে শহীদ বুদ্ধিজীবিদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলার সম্পাদক আব্দুল লতিফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু, সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল, ফাতেমা-তু-সগুরা, গোলাম সারোয়ার সম্রাট, রেজওয়ানুল হক রিজু প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল, একেবারে শেষ দিকে এসে পরাজয়ের আগমুহূর্তে তা রূপ নেয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তখন তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় বেছে বেছে হত্যা করেছিল জাতির অগ্রণী শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের। এসব হত্যার কারণটি স্পষ্ট, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা চেয়েছিল স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়া দেশটিকে মেধায়-মননে পঙ্গু করে দিতে।

বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পিত ঘটনার সঙ্গে এ দেশেরই কিছু মানুষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তি রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতার কারণেই এতটা ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানো সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই বাহিনীগুলোর সদস্যরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের উঠিয়ে এনেছেন; তুলে দিয়েছেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাই হত্যাযজ্ঞ সম্পন্ন করেছেন। আমাদের জন্য এটা গ্লানি আর দুর্ভাগ্যের বিষয় যে সেই বিশ্বাসঘাতকদের অনেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ও সমাজে পুনর্বাসিত হয়েছেন, কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছিলেন।

বিডি

আপনার মতামত লিখুন :