লালমনিরহাটে ৪৯ বছরেও নির্মান হয়নি সাগরঘাট ব্রীজ

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৯ PM, ৩০ অগাস্ট ২০২০

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি সতি নদীর সাগরঘাট ব্রীজ। ফলে চরম দুর্ভোগে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি বুড়িরদীঘি হয়ে বামনের বাসা যাতায়তের রাস্তায় রয়েছে সতিনদী সাগরঘাট। সাগরঘাটে নৌকা বা কলাগাছে ভেলায় পাড়াপাড় হন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। উভয় প্রান্তে রয়েছে বাজার, স্কুলসহ নানান সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। এ পথে স্কুল কলেজ গামি শিক্ষার্থীসহ  দৈনিক যাতায়ত করেন কয়েক হাজার মানুষ। জনবহুল এ পথে সাগরঘাট এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মান করতে স্থানীয়রা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি তুলে আসছেন। নির্বাচনের সময় সকল জনপ্রতিনিধি এ এলাকায় এলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখেন সাগরঘাট ব্রীজ করবেন। কিন্তু সরকারের পালাবদল হলেও জনদুর্ভোগ থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয়রা। দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছরেও ব্রীজ নির্মিত হয়নি।
ব্রীজ নির্মান না হলেও কয়েক বছর আগেই সাগরঘাটের উভয় প্রান্তের সড়কটি পাকরন করেছে উপজেলা প্রকৌশল দফতর। সড়কটি পাককরন করা হলেও একটি ব্রীজের অভাবে  সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয়রা। দুই দিকে পাকা সড়ক মাঝ পথে সতিনদীর সাগরঘাটে নৌকা বা ভেলায় পাড়ি দিতে হয়। ফলে পাকা করা সড়কটিও তেমন কাজে আসছে না।
স্থানীয়রা জানান, কমলাবাড়ি এলাকাটি সবজি এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত। এ এলাকার সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে বিক্রি হয়। সাগরঘাটে ব্রীজ না থাকায় পরিবহন সমস্যার কারনে এখানকার চাষিরা তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। অনেক সময় এসব পন্য পরিবহনে নৌকা বা ভেলা উল্টে চাষিদের পন্যের ক্ষতি হয়। ব্রীজের অভাবে বামনের বাসা গ্রামের লোকদের কমলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ বা আদিতমারী উপজেলা পরিষদ যেতে ১০/১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। অনুরুপ ভাবে চন্ডিমারী চরিতাবাড়ি এলাকার মানুষদের বামনের বাসা হয়ে হাজিগঞ্জ বা কালীগঞ্জ উপজেলার এতিহ্যবাহি শিয়ালখোয়ার হাট যেতে ৮/১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। যা সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হয়।
সাগরঘাট এলাকার উভয় প্রান্তে রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় বা নৌকায় করে যাতায়ত করে থাকে। ঝুঁকিপুর্ন পথ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠান না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত থাকলেও  শিক্ষার হার দিন তিন কমে যাচ্ছে পাশ্ববর্তি গ্রামগুলোতে। এ কারনে এলাকাবাসীর প্রানের দাবিতে পরিনত হয়েছে সাগরঘাটে ব্রীজ নির্মানের।
পথচারী চাঁন মিয়া ও হেলাল উদ্দিন বলেন, জন্ম থেকেই কলাগাছের ভেলায় এ সাগরঘাট পাড় হচ্ছি। পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। আমাদের চাষ করা সবজি সারাদেশের বাজারে বিক্রি হয়। অনেক কষ্ট করে ভেলা বা নৌকায় করে এসব সবজি পাড় করতে হয়। যা ব্যায় বহুল। এ কারনে পাইকাররা সবজি ক্রয় করতে এসব গ্রামে আসেন না। যার দরুন এখানকার কৃষি পন্যের ন্যায্যমূল্য আমরা পাই না। দ্রুত ব্রীজ নির্মানের দাবি করেন তারা।
বুড়িরদীঘি এলাকার বিপ্লব মিয়া বলেন, ভোটের সময় সবাই আসের ব্রীজ করতে চেয়ে ভোট নেন। ভোট শেষে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। সরকারী লোকজন মাঝে মধ্যে আসেন মাপজোগ করে বালু নিয়ে চলে যান। তারাও বলেন ব্রীজ হবে।  কিন্তু ব্রীজ আর হয় না। দ্রুত ব্রীজ নির্মান করতে তিনিও সরকারের উচ্চ মহলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
শিয়ালখোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, পাবনাপাড়া, ময়নাচওড়া, বেলতলি, বামনের বাসা এলাকার শিক্ষার্থীরা সাগরঘাট পাড়ি দিয়ে  বিদ্যালয়ে আসে। এসব গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় সময় বিলম্বে বা ভিজে বিদ্যালয়ে আসে। সাগরঘাট ব্রীজটি দ্রুত নির্মান করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ‘সাগরঘাটে ব্রীজ নির্মানের জন্য ইতিপুর্বেও ডিজাইন পাঠানো হয়েছে। সেই ফাইলটি নষ্ট হওয়ায় আমি যোগদানের পরেই প্রধান কার্যালয় থেকে এ ব্রীজের ফাইল চাওয়া হলে নতুন করে ৪৮ মিটারের ব্রীজের ডিজাইন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনসহ বরাদ্ধ এলে সাগরঘাট ব্রীজ করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।’
বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :