লালমনিরহাটে কব্জি দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শাহ আলম

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১৪ AM, ০৪ এপ্রিল ২০১৭

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: হাত দুটি ঠিকই আছে। কিন্তু সেই হাত দুটিতে নেই কোনো আঙুল। তাই দুহাতের কব্জির সাহায্যে লিখে প্রাথমিক- জেএসসি ও এসএসসি পাসের পর এবার এইচএসসি পাসের স্বপ্ন আঁকছে ছেলেটি। সংসারের অভাব-অনটন আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রতিবন্ধী শাহ আলম।

রোববার সকালে হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২০১ নং কক্ষে শাহ আলম দুহাতের কব্জির সাহায্যে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব বিছনদই গ্রামের বর্গা চাষি কৃষক একরামুল ও মা মরিয়ম বেগমের ছেলে। অভাব অনটনের মধ্যেই ছেলেকে পড়াশুনা করাচ্ছেন তারা। ভবিষ্যতে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানোর শঙ্কা কাটছে না তাদের।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহ আলম জানায়, জন্মের এক বছরের মাথায় মাটিতে হামাগুড়ি দিতে গিয়ে উঠোনের চুলার আগুনে তার দুহাত পুড়ে যায়। এরপর সংসারের অভাব অনটনের কারণে বর্গা চাষি কৃষক বাবা একরামুল ভালোমতো চিকিৎসা করতে না পারায় দুহাতের সবগুলো আঙুল হারাতে হয় তাকে। কিন্তু আঙুল হারালেও ছোট্ট বয়স থেকে পড়াশোনার আগ্রহ হারায়নি সে। আর তাই মনের অদম্য বাসনা নিয়ে প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এবছর বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

তার বাবা একরামুল জানায়, তিন ছেলে আর দুই মেয়ে নিয়ে ৭ সদস্যের পরিবার তার। বড় ছেলে শাহীনুর পড়ছে রংপুর কারমাইকেল কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে। বাকিরা সবাই পড়াশোনা করলেও তাদের খরচ জোগানো প্রায় অসাধ্য হয়ে পড়ে।এ সময় পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক জাহিনুর ইসলাম বলেন, ওই পরীক্ষার্থী কব্জির সাহায্যে লিখছে। তার লেখাগুলো চমৎকার। এতোদিন পত্রিকায় দেখেছি, আজ বাস্তবে দেখছি।

হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মোতাহার হোসেন লাভলু বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে পরীক্ষায় ৩০ মিনিট সময় বাড়তি দেয়া হয়েছে।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :