রুহিয়ায় ৮০ আঁটি খড়ের দাম ১০০০ টাকা; গবাদিপশু পালনকারিরা বিপাকে !

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৫ PM, ০১ অক্টোবর ২০২০

আপেল মাহমুদ, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় হঠাৎ করে পশু খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার গুলো। রুহিয়া থানাধীন ছয় ইউনিয়নে এখন এই অবস্থা। এক নাগাড়ে বৃষ্টিতে হুট করে বেড়ে গেছে গোখাদ্য খড়ের দাম।

সাধারণ সময়ে গোখাদ্যের খড়ের দাম প্রতি আঁটি এক টাকা। স্থানীয় ভাষায় ‘খেড়’ নামে পরিচিত এই ধানের খড়ের আঁটি বিক্রি হয় পণ দরে। ৮০ আঁটিতে এক পণ। এক পণের দাম ৮০ টাকা। এক মাস আগেও ছিল এমন দর। তবে আপাতত ধানের সময় শেষ হওয়ায় ও বন্যা শুরু হওয়ায় চাহিদার তুলনায় এর সরবরাহ কমে গেছে। পাশপাশি বৃষ্টিতে ভিজে গেছে বেশিরভাগ কৃষকের খড়। এরই সুযোগে এসব খড়ের আঁটির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ গুণ। এখন একেকটি আঁটি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২ টাকায়।

অপর দিকে, স্থানীয় পশুখাদ্যের দাম বাড়াতে সুযোগ নিচ্ছে পশুখাদ্য বিক্রির বিভিন্ন কোম্পানি। তারাও অধিক মুনাফার আশায় দোকান খুলে বসে আছে।

খড় বিক্রি করেন এমন পাইকারি ব্যাবসায়িরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকার কারণে এক মাস আগে যে খড়ের আঁটির দাম ছিল এক টাকা, সেটি গত সপ্তাহে ঠেকে ৫ টাকায়। তবে এরপর এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই দামও বৃদ্ধি পেয়েছে তিন গুণ আর এক মাস আগের দরের সঙ্গে তুলনা করলে দাম বেড়েছে ১০/১২ গুণ। টানা বৃষ্টির কারণে ও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসব ব্যবসায়ী। ফলে ব্যক্তি পর্যায়ে পশুর মালিক ও খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

অতিবর্ষণের সুযোগে দাম বাড়িয়ে খড় বিক্রি করছেন পাইকাররা। রুহিয়া থানাধীন রুহিয়া ইউনিয়নের মোঃ আজগর আলী ও রাজাগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, বন্যা হওয়ায় নিজেদের খড়ের পুইন (পোয়ালের পুঞ্জ, কেউ কেউ গোলাও বলে থাকেন) পঁচে গলে শেষ হয়েছে। এখন গরু বাছুর নিয়ে মহাবিপদের মধ্যে আছি।

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় একাধারে মানুষের কষ্ট ও গবাদি পশুর খাদ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কৃষক ও গৃহস্থদের সীমাহীন দুর্ভোগ চলছে।

২নং আখানগর ইউনিয়নের ঝাড়গাঁও গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের অনেকেই চড়া দামে খড়, ঘাস, লতাপাতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে না পেরে বাধ্য হয়ে গরু, ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন পানির দামে। এতে নামকা ওয়াস্তে মূল্যে লাখ টাকার পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

১নং রুহিয়া ইউনিয়নের কর্নফুলী এলাকার মোঃ পাপন বাবু তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন, “অবিশ্বাস্যকর একপণ কারি (খড়) এর দাম একহাজার টাকা। গরু বাঁচবে না মরবে।”

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যে খড় ৪০০ টাকা পণ (৮০ আঁটি) ছিল তা আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা দামে। আর একটু নিম্নমানের ভেজা আঁটির দাম আটশ টাকা পণ। কিভাবে কিনবো বলেন? এসময় খড়ের দাম প্রায় তিনগুণ দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুহিয়া থানাধীন “বিপ্লব পশু খামারের” মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, তৈমুর রহমান বলেন, এক মাসের ব্যবধানে খড়সহ বিভিন্ন পশু খাদ্যের পণ্যের দাম আকাশচুম্বি হয়েছে। গত বছর সংগ্রহ করা খড়ের মজুত শেষ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছি।

খড় বিক্রেতা মিঠু জানায়, গ্রাম অঞ্চলের বড় গৃহস্থরা খড়ের গোলা তৈরি করে সংরক্ষণ করে। আর ব্যবসায়ীরা মৌসুমে খড় সংগ্রহ করে মজুত গড়ে তোলেন। এবার বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে গৃহস্থ বাড়ির খড়ের গোলা পঁচে গেছে। ফলে খড়ের বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

তিনি বলেন, বড় বড় গৃহস্থরা অধিক মুনাফার আশায় প্রয়োজন অনুযায়ী ওইসব খড় বাজারে না ছেড়ে আটকে রাখায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যা এখন সাধারণ খামারি ও গৃহস্থদের নাগালের বাইরে। এভাবে বন্যা আর বৃষ্টি চলতে থাকলে খাদ্যের দাম আরোও বাড়বে এবং পশু খাদ্য নিয়ে চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

১নং রুহিয়া ইউনিয়নের গুয়াপাড়ার খামারি মোঃ খাইরুল ইসলাম (মাস্টার) বলেন, দুইটি বিদেশি গরু ও দুইটি দেশি ষাঁড় পালন করছি। এবার অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে তরতর করে বেড়েই যাচ্ছে পশু খাদ্যের দাম। গমের ভূষি, খৈল, চালের কুড়া, ছোলার খোসা, মশুর ডালের গুড়া ও চালের খুদের বাজার গত দুই মাসে দেড় থেকে দুইগুণ বেড়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ শাহরিয়ার মান্নান জানান, ঔষুধের দোকানসহ নিয়মিত ভাবে হাট বাজারের পশু খাদ্যের দোকান মনিটারিং করা হচ্ছে। এটি আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ। প্রথমদিকে ব্যবসায়ীদের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে সচেতন করি। এতে সাবধান না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়। তবে খড় বা লতাপাতা জাতীয় খাদ্যদ্রব্য আমাদের নাগালের বাইরে হওয়ায় খড়ের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে ছোট বড় খামারিরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :