রাত পোহালে কাল চাঁদপুর পৌর নির্বাচন; ভোটগ্রহণ হবে ভোটিং মেশিনে !

২১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৩ PM, ০৯ অক্টোবর ২০২০

চাঁদপুর : আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন। প্রথমবারের মতো এ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। বর্তমানে ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন পৌরসভার লক্ষাধিক ভোটার। কে হবেন আগামী দিনের পৌর পিতা? তা জানার জন্য শনিবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে পৌরবাসীকে।

এবার চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হিসেবে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মামুনুর রশিদ বেলাল।

এদিকে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনরে পক্ষ থকে ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও বিজিপি,র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত স্টাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের শহিদ রাজু ভবনে ৫২ জন প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে ইভিএম মেশিন ব্যবহার, ভোট চলাকালীন সময়ে সংরক্ষণ ও ভোটগণনা শেষে তা ফেরত দেয়ার বিষয়ে এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ব্রিফ করেন চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মো.দেলোয়ার হোসেন।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চাঁদপুর পৌরসভার ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৯ হাজার ২৭ জন এবং নারী ভোটার ৫৮ হাজার ৮৫৯ জন। ৬৭ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে তিনজন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪ জন এবং কাউন্সিলর প্রার্থী ৫০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনি জানান বলেন, চাঁদপুর পৌরসভায় ওর্য়াড সংখ্যা ১৫টি, ভোটকেন্দ্র্র ৫২টি ও ভোটগ্রহণ কক্ষ ৩০৫টি। প্রতিটি কক্ষে দুটি করে ইভিএম মেশিন থাকবে। তার মধ্যে একটি অতিরিক্ত থাকবে। প্রতি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি কক্ষে একজন করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দুজন পোলিং অফিসার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কাজে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন করে আনসার সদস্য ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি ও ইসলামী আন্দোনের প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল পৌরসভা নির্বাচনে ৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চাঁদপুর পৌর এলাকার ২১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যার জন্য আমরা ওইসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও প্রয়োজনে মোবাইল টিম কাজ করবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, নির্বাচন সঠিকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে পারেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো পাবলিক যানবাহন চাঁদপুর পৌরসভার সীমানার ভেতর চলাচল করতে পারবে না।

বিডি

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :