রাণীশংকৈল প্রকল্প অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৫৪ PM, ২১ জুন ২০১৬

সফিকুল ইসলাম শিল্পী,  রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও) থেকে : ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রকল্প অফিসে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ২০১৫-২০১৬ খ্রিঃ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো (টি,আর) কর্মসূচি ২য় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, ইয়াসিন আলী, ঠাকুরগাঁও-৩ সংস্কারের লক্ষ্যে ৮৭ লক্ষ্য ৫৩ হাজার ৫৭৭ টাকা বরাদ্দ পান এবং রানীশংকৈল উপজেলায় ৪০ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯২০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। অপরদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা রাণীশংকৈলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৭৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন।

জানা গেছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের গ্রামীন অবকাঠামোর (টি,আর) কর্মসূচি ২য় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসান তার মনগড়া সোলার ইন কোম্পানি’র  সাথে বিশেষ কমিশনের মাধ্যমে সোলার ক্রয়ের সার্বিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। যা স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ এবং একাধিক ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলেছেন। প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসান তার ব্যক্তিগত অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষ একটি কোম্পনির মাধ্যমে সোলার ক্রয় করতে চাইছেন। যা প্রকল্প চেয়ারম্যানগন সোলার নিতে চাইছেন না। তাতে রাণীশংকৈল উপজেলায় সোলার ক্রয়ের বিষয়টি লোকমুখে চাঞ্জল্য সৃষ্টি করেছে। সরকারি ভাবে সোলার ক্রয়ের বিষয়টি কোন কোম্পানির মারফতে নিতে হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোন কম্পানি রয়েছে কিনা সাধারণ মানুষ দিধা দন্দের মধ্যে রয়েছেন।

আরো জানা যায়, বরাদ্দ কৃত অর্থ দিয়ে ধর্মীয়/শিক্ষা/জনকল্যাণ মূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামত ব্যয় হওয়ার কথা। বরাদ্দকৃত ৫০% অর্থ সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে এবং পরিদর্শনও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে কিন্তু অপর পক্ষে চিত্র সম্পূর্ন আলাদা এবং ভিন্ন। ক্ষমতা সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্বজন প্রীতির মাধ্যমে মনগড়া তালিকা প্রস্তুতেরও অভিযোগ রয়েছে।প্রকল্প অফিসার এমন অবস্থায় নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন বললেন সোলার ভোগী জনৈক ব্যক্তি। ৩০ জুনের মধ্যে উক্ত কোম্পানির সোলার ক্রয়ে ব্যর্থ হলে প্রকল্প ফেরত যাবে সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসান।তবে কি ঘটতে যাচ্ছে ৩০ জুন সোলার প্যানেলের, দেখতে চায় রানীশংকৈল বাসী।

প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসানের সাথে সোলার ক্রয়ের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, রানীশংকৈল উপজেলায় শুধু মাত্র “ সোলার ইন কোম্পানির’র সোলার ক্রয় করতে হবে অন্যথায় ৩০ জুনের পরে প্রকল্পগুলি ফেরত যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক একজন ব্যক্তি বলেন, শুনেছি এ কোম্পানির নিম্নমানের সোলার দিয়ে প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসান নিজেকে লাভবান করে তুলবেন। এমন একটি কথা রাণীশংকৈলের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার নাহিদ হাসান বলেন,সরকার অত্যান্ত সচেতনতার সাথে এ সমস্ত প্রকল্প সাধারণ মানুষের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিচ্ছেন কোন রকমের দুর্নীতি না হওয়ার জন্যই। সমাজের কিছু মন্দ মানুষ ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী এবং সরকারের কিছু অস্বচ্ছ কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন ঘটনা যেন না ঘটাতে পারে সেজন্যেই সরকার এমন ব্যবস্থা করেছেন। তবে এ সময় উপস্থিত (ও,এস) রফিক প্রকল্প অফিসার জিয়াউল হাসানের সোলার কোম্পানির সাথে যোগ সাজসের বিষয়টি শুনেছেন বলে অভিযোগ করেন।

 

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :