রাণীশংকৈলে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ৪০ রকম ঘাপলা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:০৫ PM, ০৫ এপ্রিল ২০১৭

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি : ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি(ইজিপিপি)তে অনেক অনিয়ম দূনীর্তিতে ভরপুর। কাজ না করেই অর্থ আত্মসাত। দরিদ্রদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে লোক নিয়োগ। প্রকল্প চেয়ারম্যানের মনোনীত লোক নিয়োগ করে টাকা আত্মসাত। নানান অনিয়মের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ৪০ দিনের কর্মসুচি।

কর্মসুচি শুরু হয়েছিলো ফ্রেবুয়ারী মাসের ১ম সপ্তাহে শেষ হয় ৩০ মার্চ। অজ্ঞাত কারনে এ কর্মসুচিতে ছিলো না সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের সঠিক তদারকি।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রকল্পে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে। উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দে ৪০টি প্রকল্পে প্রায় ১৩২৪ জন অতিদরিদ্র ব্যক্তিরা নিদিষ্ট সীমানার মধ্যে সপ্তাহে ৫দিন মাটি কাটার কাজ করে তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে এমনই মহৎ পরিকল্পনা সরকারের।

কিন্তু বাস্তবে এ পরিকল্পনার উল্টো চিত্র দেখা গেছে উপজেলায়। প্রকল্প চেয়ারম্যানের ছেলেদের কাজে নিয়োগ, মনোনীত লোক নিয়োগ, অতিদরিদ্রদের তালিকা ভুক্ত করতে অর্থের চাহিদাসহ নানান ভাবে অর্থ আত্মসাত করেছে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা।

এমন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে উপজেলার ৮নং নন্দুয়ার ইউপির ২ ও ৩ নং ওর্য়াডের প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য তবিবর রহমান তার প্রকল্পে সর্দার সহ প্রায় ৩৮ জন কাজ করার কথা, কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়ে তার নির্ধারিত মাটি কাটার স্থান কালুগাও কবর স্থান রাস্তায় গিয়ে দেখা যায় কাজ না করে রাস্তার পাশেই বসে আছেন ২জন মহিলা। তাদের কাজের কথা বলা হলে তারা বলেন, আমরা কাজ করে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি আর বাকী সদস্যরা কোথায় প্রশ্নে বলেন, আমরা জানি না।

অথচ সেখানে কাজ করার কথা প্রায় ১৯ জনের। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় এখানে মাঝে মধ্যে দুই একজন মহিলা একটু আধটু মাটি কাটে এছাড়া তেমন কোন লোক দেখা যায় না। এছাড়া ওই প্রকল্পের তালিকায় দেখা যায় ইউপি সদস্য তবিবর রহমানের ছেলে ফাহাদ আহম্মেদ রিফাদের নাম। তিনি কখনো কাজ করেননি তবে তার নামে ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া তার তালিকায় অন্তত ১০ জন রয়েছেন যারা কখনোই কাজ করেনি। এদের মধ্যে একজন রাকিব পিতা মৃত সিরাজুল ইসলাম।

তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, মেম্বার একদিন ছবি ভোটার আইডি চেয়েছিলো আমি দিয়েছি। আর মাঝে মধ্যে আমার কাছে স্বাক্ষর নিতো আর কিছু টাকা দিতো আমি কখনো মাটি কাটা কাজে যায়নি।

এই প্রকল্প চেয়ারম্যান শুধুমাত্র তাদের নাম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে করে প্রায় প্রত্যেক প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড় থাকলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কোন নজর নেই।

এদিকে ৩ নং হোসেনগাও ইউপি’র ৪ নং প্রকল্পে হয়েছে অনেক অনিয়ম, এ প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য শুকুরউদ্দীন। তিনি এ কর্মসুচির লোক দিয়ে ব্যক্তি-মালিকানার পুকুর সংস্কারের কাজ করিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত কোন কাজ হয়নি এবং প্রকল্প অনুযায়ী নিয়াপাড়া প্রাইমারী স্কুল হতে সিএন্ডবি রোড পর্যন্ত মাটি কাটার কথা থাকলেও এক কোদাল মাটি কাটা হয়নি এ রিপোট করা পর্যন্ত।

লেহেম্বা ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত লেবার সাইদুর রহমান সেধুয়া কাজ না করে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ঠিক এভাবেই উপজেলার ৪০ টি প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকাই আত্মসাত করেছেন প্রকল্প চেয়ারম্যানরা। বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসবে বিশ্বাস করেন উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে ৮নং নন্দুয়ার ইউপি’র সদস্য ও ২/৩ নং ওর্য়াডের প্রকল্প চেয়ারম্যান তবিবর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার সাথে কথা বলে কাজ হবে না আপনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন, আমাদের যা খুশি তাই করবো তাতে আপনাদের কি?

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন সুপার ভাইজার তাজউদ্দীন বলেন, অনেক কাজের চাপ থাকার কারনে এ কর্মসুচির সঠিক তদারকি করা সম্ভব হয়নি। আপনি জানালেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :