রাণীশংকৈলে শীতে বিপর্যস্ত ছিন্নমুল মানুষ

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৬ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০১৬

আনোয়ার হোসেন আকাশ,রাণীশংকৈল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলে মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতা কম থাকলেও মাত্র কয়েকটা দিন কাটতেই প্রচন্ডহারে শীত জেঁকে বসেছে। প্রচন্ড শীতের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ছিন্ন মুলের মানুষ ও শিশুরা। তীব্র শীতের মধ্যেও অসংখ্য অসহায় পরিবারের লোকজন শীতের কাপড় ছাড়াই রাত যাপন করছে। বেড়ে গেছে শীত জনিত রোগের প্রকোপ। তাছাড়া ইরি মৌসুমের ধানের চারা শীতের প্রকোপে মরতে শুরু করেছে। এতে কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ছাপ।
শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে। শীত বস্ত্রের দাম বাড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষেরা ফুটপাতে ভিড় জমিয়েছে শীত বস্ত্র কেনার জন্য। শীতের প্রথম ধাপে বিভিন্ন সংগঠন, ব্যবসায়ী, দানশীল ব্যক্তি, এনজিও প্রতিষ্ঠান শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও এখন ততোটা লক্ষ করা যাচ্ছেনা। তাছাড়া সরকারিভাবে যেসব কম্বল বিতরণ করা হয় তার সিংহভাগ চলে যায় রাজনৈতিক ব্যক্তি, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ আমলা চামচাদের হাতে। প্রতি বছর দরিদ্রদের মাঝে ঠিকমতো কম্বল বিতরণ করা হলে শীতের তীব্রতার শিকার হতে হতো না তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাজেদুর রহমান জানান, হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এ অবস্থা আরো কিছুদিন বিরাজ করতে পারে। এ মাসের মধ্যে কয়েকটি শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ফিরোজ কবির জানান, ঠান্ডাজনিত কারনে শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমেনিয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, এ্যকোনিউমোনিয়া, ফ্যারেনজাইটিস, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া শীত জনিত রোগের সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপ ও দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নাহিদ হাসান জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সরকারের বরাদ্ধকৃত শীতবস্ত্র ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরো কিছু চাহিদা পাঠানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :