রাণীশংকৈলে ভাঙ্গা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, দূর্ঘটনার আশঙ্কা !

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১৯ PM, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভাঙ্গা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।এতে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয় জনসাধারণ। সেতুটি উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের বাজে বকসা গ্রামে অবস্থিত ।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) আওতাধীন রাণীশংকৈল-নেকমরদ মহাসড়ক ঘেঁষা মীরডাঙ্গী থেকে ঐতিহ্যবাহী কাতিহার হাট পর্যন্ত প্রায় নয় কিলোমিটার পাকা সড়ক শুধুমাত্র এই জরাজীর্ণ সেতুটির কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বছর চারেক আগে কয়েকধাপে মীরডাঙ্গী থেকে কাতিহার হাট পর্যন্ত প্রায় নয় কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। পাকা সড়ক নির্মাণের পর থেকেই সড়কটিতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, স্থানীয় মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয় এটি। তবে নতুন সড়ক নির্মাণের সময়েও বহু পুরোনো এই সেতুটি বেহাল থাকলেও নতুন করে নির্মাণ না করায় ভাঙ্গা এই সেতু নিয়ে বর্তমানে দূর্ভোগে রয়েছে পথচারীসহ স্থানীয়রা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মীরডাঙ্গী হতে কাতিহার হাট সড়কের বাকসা সুন্দরপুর এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাকা সড়কের একটি সেতু দুই ধাপে ভেঙ্গে পাথরের ঢালাই উঠে খাল হয়ে প্রায় দুই ফিট করে দুই স্থানের রড বেরিয়ে পড়েছে। সেতুটির উপর দিয়ে সাইকেল-মোটরসাইকেল দেখে শুনে চলাচল করা গেলেও রাতের আধারে অচেনা গাড়ী চালক পথচারীরা পড়ে যেতে পারে বিপদে। সর্বোচ্চ তিন চাকার একটি ভ্যান অথবা থ্রি হুইলার গাড়ী পারাপার করতে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে রাতের আঁধারে সামান্যতম অসাবধনতা হলেই ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা।

স্থানীয়রা বলছে, সেতুটি দিয়ে কোন ভাড়ী চার চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সম্প্রতি একজন অচেনা পথচারী মোটরসাইকেল চালক অসাবধনতা বশত ভাঙ্গা সেতুর অংশে গাড়ী উঠিয়ে দিয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়লে স্থানীয়রা উদ্বার করে হাসপাতালে নেয়। ভাঙ্গা সেতুটির কারণে এমন দূর্ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে থাকে।

স্থানীয়রা আশংকা করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা না হলে ঘটে যেতে পারে বড় দূর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও মাত্র দশ ফিট প্রস্থ ও প্রায় পঞ্চাশ ফিট দৈর্ঘ্যর সেতুটি তখন নির্মাণ না করায় বর্তমানে আমরা সড়কটির যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। নতুন সড়ক নির্মাণের সময় কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি।। তাই কার্যত সড়কটিতে চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি সালাম, জব্বার, মান্নান বলেন, সেতুটি দেশ স্বাধীনের আগে নির্মাণ হতে পারে । কারণ ছোট থেকেই এই সেতুটি আমরা দেখে আসছি।

তারা আরো জানান,একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে সেতুটি। তবে একদিকে সংস্কার করার বছর না ঘুরতে আরেক দিকে ধসে সেতুর রড বেরিয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে স্থানীয় কৃষক শ্রমিক যানবাহন চালকসহ পথচারীরা।

বিশেষ করে সপ্তাহে প্রতি শনিবার ঐতিহ্যবাহী কাতিহার হাটে নেকমরদ গাজীর হাট মীরডাঙ্গী সহ বিভিন্ন এলাকার গরু গাড়ী ধানের গাড়ীসহ বিভিন্ন পণ্যে বহনের গাড়ী গুলো কয়েক মাস যাবৎ শুধু মাত্র ভাঙ্গা সেতুটির কারণে এ সড়কে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধান গম সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন শেষে ঘরে কিংবা বাজারে তুলতে সেতুটির কারণে আমরা গাড়ী পারাপার করতে পারি না। এতে আমরা চরম ভোগান্তি ভোগ করে আসছি । তাই পথচারী ও স্থানীয়রা দাবী জানিয়েছেন দ্রুত সেতুটি পূর্ণ-নির্মাণ করার।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস বলছে, মীরডাঙ্গী থেকে কাতিহার সড়কটি আমাদের উপজেলা সড়ক ক্যাটাগরিতে পড়ে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সে সড়কের মধ্যে থাকা পুরোনো সেতুটি ইতিমধ্যে দুইবার সংস্কার করা হয়েছে। তাছাড়াও নতুন করে নির্মাণ করার জন্য একাধিকবার বিভিন্ন প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পেয়ে অর্থ বরাদ্দসহ টেন্ডার হলেই সেতুটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম বলেন, খুব শিগগির সেতুটি পূর্ণ:নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না বলেন, সেতুটি খুব ভয়ানক অবস্থায় রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নিবো।

বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :