রংপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া; আহত-১০

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৩ PM, ৩০ অগাস্ট ২০২০

রংপুর ব্যুরো : রংপুরে শঙ্খ ধ্বনি ও উলু ধ্বনি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন পরিষদের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি চেয়ারও ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ ক্ষত্রিয় অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধনজিত ঘোষ তাপস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার মুকুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়ে পুজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ভবোতোষ সরকার বাচ্চুকে আহবায়ক এবং প্রশান্ত কুমার অ্যাডভোকেটকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

শনিবার দুপুরে সেন্ট্রাল রোডস্থ ক্ষত্রিয় অফিস প্রাঙ্গণে নব গঠিত পুজা উদযাপন কমিটির উদ্যেগে জাতীয় পর্যায়ে শঙ্খ ধ্বনি ও উলু ধ্বনি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হওয়া পুজা উদযাপন পরিষদের লোকজন সভা স্থলে হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষে দু’পক্ষের ১০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। আর জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদ দায়ী করছে দুই পক্ষকেই।

সদ্য বাতিল হওয়া রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধনজিত ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, তাদের না জানিয়ে এবং মেয়াদ থাকার পরও কোনও কারণ ছাড়াই তাদের কমিটি একতরফা ভাবে বিলুপ্ত করার কোন অধিকারও কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেই। তারা অন্যায়ভাবে তাদের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন। তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুরের সংখ্যাগরিষ্ট নেতাকর্মীই এই অবৈধ সিদ্ধান্ত মানেন না। তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তারা কোনও হামলা করেনি বলেও দাবি তার।

অন্যদিকে নব গঠিত রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য প্রশান্ত কুমার অ্যাডভোকেট জানান, তারা জাতীয়ভাবে শঙ্খ ধ্বনি ও উলু ধ্বনি প্রতিযোগিতার আয়োজন করছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে তাদের অনুষ্ঠান বানচানের অপচেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষ তা প্রতিহত করেছে। তারা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান অব্যাহত রেখেছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া পরিস্থিতি তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বলেও জানান তিনি।

বিডি

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :