যুগ যুগ ধরে বন্ধ রুহিয়ার “বিদ্যানিধি পাঠাগার”, ভ্রুক্ষেপ নেই সমাজপতিদের !

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৪৫ PM, ০৬ জানুয়ারী ২০২১

আপেল মাহমুদ, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়ায় নিবন্ধনকৃত বেসরকারি গ্রন্থাগার “বিদ্যানিধি পাঠাগার” (তালিকাভুক্তি নং ঠাক/০৪/২০১১)।এটি চালুকরণ বা নিয়মিতকরণে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই সমাজপতিদের।

জাতীয় গ্রন্থাগার সূত্রে জানাযায়, বিদ্যানিধি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত কবি মো: নূরল হক বোমবার্ড।

১৯৯১ সালে নয়শত বই এবং ১০৬ সদস্য নিয়ে সাবেক বৃহৎ রুহিয়া ইউনিয়নের রামনাথ বাজার এলাকার একটি ভবনে বিদ্যানিধি পাঠাগারের পথচলা শুরু হয়। পরে রামনাথ বাজারে প্রগতি সংঘ ক্লাবের মাঠ সংলগ্ন পশু হাসপাতালে, পরবর্তীতে প্রগতি সংঘ অফিসে স্থানান্তরিত হয়।

রুহিয়ায় সমাজ, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান সবই ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু সমাজ উন্নয়ন কিংবা সুন্দর সমাজ গড়ার স্বার্থে গ্রন্থাগার যে অপরিসীম-এ বিষয়ে দৃশ্যমান তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

শিক্ষার্থী ও বই প্রেমী মানুষেরা জানেনই না গ্রন্থাগারটির কথা। নিজস্ব ঘর, সাইনবোর্ড এবং কোন রকম কার্যক্রম না থাকায় একযুগ ধরে তা ‘চোখের আড়ালে’ই রয়েগেছে। ভাবখানা এমন যে, বই পড়ে কী হবে? ওটা আবার কী জিনিস? বই পড়ে কে ধনী লোক হয়েছে? অর্থাৎ ধনই মুখ্য, জ্ঞানার্জন নয়।

নিবন্ধনকৃত বেসরকারি গ্রন্থাগার বিদ্যানিধি পাঠাগার কমিটির সভাপতি মোঃ মনোয়ার হোসেন এবং পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক মোঃ জিল্লুর রহমান জানায়, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গ্রন্থাগার বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মাধ্যমিক স্কুলে (হাইস্কুল) সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি করে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। একই ভাবে, প্রতিটি নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগারে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক স্কুলের মতো সরকারি স্কেলে একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার নিয়োগ দেয়া আবশ্যক। তাহলে গ্রন্থাগার গুলো টিকে যাবে। মানুষ গ্রন্থাগারমুখী হবে। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও খারাপ নেশা থেকে ফেরানোর কাজ সহজ হবে। গ্রন্থাগার হবে ‘দিন বদলের হাতিয়ার’।

১নং রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, রুহিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, ঘটছে। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই তুলনায় গ্রন্থাগারের সংখ্যা বাড়েনি।গ্রন্থাগার আমাদের নিজের স্বার্থে ও প্রয়োজনেই। সেই নিরিখেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে যথাযথ দৃষ্টিই এক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনতে পারে।

২০ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, অনিল কুমার সেন বলেছেন, একটি সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। তাদের মানসিক বিকাশের মাধ্যমে সমগ্র জাতির উন্নতি সম্ভব। তাই শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রুহিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনর রশিদ বলেন, রুহিয়া বিদ্যানিধি পাঠাগার বেশ পুরনো। সেই তুলনায় গ্রন্থাগারের প্রসার বা বিকাশ ঘটেনি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় মানুষ বয়স, শ্রেণি, পেশা, জাতি, বর্ণ, ধর্মভেদে প্রবেশাধিকার পায় না। কিন্তু গ্রন্থাগার বা পাঠাগারে সবাই যেতে পারে, উন্মুক্ত। এজন্যই গ্রন্থাগারকে ‘পিপলস ইউনিভার্সিটি’ বা গণবিশ্ববিদ্যালয়’ বলা যায়। দুঃখের বিষয়, সেই অর্থে বিদ্যানিধি পাঠাগার উপেক্ষিত, অবহেলিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের, জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আম্বিয়া বেগম জানান, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগার ১ হাজার ৩৭৯টি। গ্রাম/ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যায়ের একটি গ্রন্থাগার পরিচালনায় অন্তত একজন স্টাফ/কর্মী প্রযোজন। কমিটির সদস্যদের চাঁদা/সংগৃহীত অনুদানে গ্রন্থাগারগুলো পরিচালিত হয়। এসব গ্রন্থাগার টিকিয়ে রাখতে হলে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় নেয়া দরকার।

বিডি

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :