যত আঘাত এসেছে, তত দৃঢ় ও উজ্জ্বলতর হয়েছে আ’লীগ -শেখ হাসিনা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:২৯ AM, ২৪ জুন ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : ‘যতবার আওয়ামী লীগের ওপরে আঘাত এসেছে, যতবার এই দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবার এই দল আরো দৃঢ় ও উজ্জ্বলতর হয়ে জনগণের সামনে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে’ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ দল আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অনুপম সেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দল সামলানোর উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেই মন্ত্রী হওয়ার লোভে দল ত্যাগ করেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমার চাওয়া-পাওয়া বা হারাবার কিছু নেই।

যে দেশের জন্য আমার বাবা-মা ও ভাইরা জীবন দিয়েছেন, সেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, কল্যাণ ও হাসি ফোটানোই আমার রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য।

আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।’

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে সংগঠনটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের মুক্তি, কল্যাণ ও অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে।

তাই আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের জনগণ কিছু পেয়েছে। আওয়ামী লীগই এ দেশের জনগণকে ভাষার অধিকার থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিয়ে গেছে।

আমরা এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগুচ্ছি। ইনশাল্লাহ, আমরা জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তিও দিতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগকে জনগণের অধিকার আদায়ে চার চারটি সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।

এজন্য আওয়ামী লীগকে অনেক ত্যাগ করতে হয়েছে। দেশের জন্য একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী আত্মোৎসর্গ করেছে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক দলের সে ইতিহাস নেই।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতাসীনরা এ দেশকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করেছিল, অন্যের কাছে হাত পেতে আমাদের চলতে হতো। বিএনপির নীতি ছিল খাদ্য ঘাটতি দেখিয়ে বিদেশ থেকে ভিক্ষা এনে লুটপাট করে খাওয়া।

কিন্তু আমরা কারোর কাছ থেকে হাত পেতে চলতে চাই না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হলো কারোর কাছে হাত পেতে নয়, আত্মনির্ভরশীল হয়ে চলা। আমরা সেই আদর্শ নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

‘৭৫ পরবর্তী হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধানকে লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে একাত্তরের গণহত্যাকারী, পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় পুনর্বাসন করে জেনারেল জিয়া।

জিয়া যেমন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টা-মন্ত্রী বানিয়েছেন, তার স্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন।

 

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :