মেয়ের সাথে পাশবিকতা; পাষন্ড পিতা আটক

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪৩ AM, ২৫ জানুয়ারী ২০১৬

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : দেশের বাইরের কোন ঘটনা নয়, এবার বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে কেশমত আলী (৩৭) নামের এক বাবা নিজের মেয়ের সঙ্গে বর্বরোচিত, অমানিবক এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১২ বছর বয়সী মেয়ের ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালিয়েছে ওই পাষন্ড পিতা। মেয়ের এমন অভিযোগে থানা পুলিশও হতভম্ব। পরে মেয়ের কথামতো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ওই লম্পট বাবাকে রাতেই গ্রেপ্তার করে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন পালের চর এলাকায় শুক্রবার রাতে ওই ঘটনার পর শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নির্যাতিত মেয়েটি অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ধ্যা রাতে বাবা আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে বালুর চরের ফাঁকা স্থানে আমার মুখ মাফলার দিয়ে বেঁধে ওই ঘটনা ঘটায়। এসময় এ ঘটনা যেন কাউকে না বলি এজন্য আমাকে জবাই করার হুমকি দেয় বাবা নামের পশুডা।’ মেয়ের মুখে ওই ঘটনা শুনে কিছুতেই স্থির থাকতে পারেননি মা ওমেলা বেগম। পরে থানায় উপস্থিত হয়ে ওই অভিযোগ করেন তিনি। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, পালের চরের কেশমত আলী ১৩ বছর আগে বিয়ে করেন একই উপজেলার ফুলুয়ারচর গ্রামের আখের আলীর কন্যা ওমেলা খাতুনকে। বিয়ের পর তাদের ঘরে দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম নেয়। ওই দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। দুনিয়াতে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো বাবা.মা। আর সেই বাবা’র হাতেই নির্যাতনের শিকার হলো নিজের সন্তান।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই কেশমত আলী আরো দুই বিয়ে করেছেন। দুই বিয়ের পর প্রথম বউকে তার দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ৬বছর আগে। সেই থেকে প্রথম বউ ওমেলা খাতুন তার দুই মেয়েকে নিয়ে মা’র বাড়িতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ ওই সময়ে একটা টাকাও খরচ দিত না কেশমত আলী। ওমেলার বাবা বেঁচে না থাকার কারণে তার মা সুরা বেগম ভিক্ষা করে খাবার জোগাত। তারওপর স্বামীর ঘর ছেড়ে ঘরে ওঠে মেয়ে নাতনি। এ অবস্থায় ওমেলা মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকম জীবন যাপন করছিল। বড় মেয়েকে স্কুলে পড়াত।

নির্যাতিত শিশুটির মা ওমেলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘দুইদিন আগে গেদির বাপে আইসা বড় গেদিক (মেয়ে) নিয়া গেল। আসলে মানুষডার মনে ছিল শয়তানি। আমার কাছে নিয়ে আসার সময় পথে গেদির (মেয়ের) সর্বনাশটা কইরা নিয়া আইল। ওডা মানুষ না, পশুর চেয়েও খারাব। মানুষডাক গুলি কইরা মাইরা হালান উচিৎ।’

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পাষন্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে সে। নির্যাতিত মেয়েকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সত্যতা পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :