মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে বীরগঞ্জের ঢেপা নদীর ঝুকিপূর্ণ ব্রীজটি

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩৭ PM, ২২ জুন ২০১৬

মোঃ নজরুল ইসলাম খান বুলু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঢেপা নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি এখন মৃত্যুরফাঁদ । দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার করছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা উত্তর ৪৫ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার হাজার হাজার মানুষসহ শত শত যানবাহন নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। যে কোন সময় দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে প্রাণ হারাতে পারে অসংখ্য মানুষ। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর শাখা আত্রাই অতঃপর ঢেপা নদী রূপলাভ করে। বীরগঞ্জ-ঝাড়বাড়ী রাস্তায় বৃটিশ শাসনামলে খেয়া ঘাটের মাধ্যমে গরু-মহিষের গাড়ি ও মানুষ পারাপার হতো তখনকার মানুষ। দিনাজপুর জেলার খানসামা বন্দর ও দেবীগঞ্জের বাহাদুর ফেরিঘাট হয়ে নদী পথে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য করত শতশত মানুষ। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য ১৯৫০ সালে তৎকালীন সরকারের সময় উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রাম সংলগ্ন ঢেপা নদীর উপর জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ইং সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনারা ঐ ব্রীজটি উড়িয়ে দেয়ার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পঞ্চগড় জেলার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশে হাজার হাজার ব্রিজ ধ্বংস হয়। ঢেপা নদীর ব্রীজটি একদিকে হেলে পড়লেও এই ব্রীজটি ধ্বংস হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ঢেপা ব্রিজটি পূননির্মানের দাবি তোলা হয় কিন্তু আজও সংস্কার বা পুননির্মান করা হয়নি ।

মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে এই ঝুকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান, অটোরিক্সা, ভটভটি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স, মিনিবাস, কোচসহ ভারী যানবাহন চলাচল ও পারাপার করছে। ব্রীজটির উপরের অংশে অসংখ্য ভাঙন রয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রতিবছর সংস্কার ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মধ্যে লোকজনকে ব্রিজটি মাপামাপি করতে দেখা গেলেও এ পর্যন্ত পুননির্মান করা হয়নি। ঢেপা নদীতে ৩০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটিতে যে কোন সময় ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী মনে করেন অবিলম্বে জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের হস্তক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ ঢেপা নদীর ব্রীজটি পুননির্মাণে সরকার আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :