মাটি বিক্রি করে সংসার চলে যার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২২ AM, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নীলফামারী সংবাদদাতা : ষাটোর্ধ মকবুল হোসেন। বয়সের ভারে কোমর কুজো হয়েছে। কি শীত, কি গরম বা ঝড় তুফান যাই হোক। ডাক পড়লে ভারে মাটি নিয়ে হাজির হন বাসা বাড়িতে। চিপটে এইমাটির প্রতিটি ভার বিক্রি করে কুড়ি টাকায়। সারা দিনে ৪/৭ ভার মাটি বেচে সংসার চালান তিনি। ঘরের বধূরা তার মাটি দিয়ে উনুন বা চুলা নেপার কাজ করেন। উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের তেলিপাড়ার বাসিন্দা মকবুল হোসেন। সংসারে স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ৪ ছেলের সংসারে সবকিছু ছিল। মেয়ে দুজনের বিয়ে দেওয়ায় স্বামীর সংসারে চলে গেছে। একে একে ৩ ছেলে বড় হয়ে নিজের পছন্দ মত বিয়ে করে আলাদা খান। একমাত্র ছোট ছেলে সংসার সামাল দিতে নারায়নগঞ্জের একটি কোম্পানিতে সামান্য বেতনে চাকরী করছেন। বাড়িতে বুড়ো-বুড়ি বর্তমানে একাকি জীবন-যাপন করছেন। তাই পেটের ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা। পেটের দায়ে কাজ বেছে নেন ভারে বাসা বাড়িতে মাটি পৌঁছানোর কাজ। প্রায় ৪ বছর ধরে এই কাজ করছেন তিনি। কাজের সুবিধার জন্য সৈয়দপুর দমকল বাহিনীর পাশে একটি খালি জায়গায় চিপটে মাটি জমা করে রেখেছেন। সেখান থেকে প্রতি ভার মাটি মাত্র ২০ টাকায় পৌছে দিয়ে থাকেন বাসা বাড়িতে। গৃহবধূরা সেই মাটি দিয়ে ঘর, উনুন বা চুলা মোছার কাজ করেন। যুগ পাল্টেছে। শহরে গ্যাস না আসলেও এলপি গ্যাসে চুলা জ্বলছে। অনেকের বাসা বাড়িরও পাকা হয়েছে। ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী বা অবস্থাপন্ন লোকেরা তাদের বাড়ির লোকজনদের হাতে তাই মাটি লাগাতে চান না। ফলে দিন দিন বৃদ্ধের মাটির চাহিদাও কমে আসছে। যেসব পরিবার বন্ধু বা মাটির চুলা ব্যবহার করেন তাদের কাছে মকবুল হোসেন খুব পরিচিত নাম। তিনি শহরের চাঁদনগর, রসূলপুর, ইসলামবাগ, নতুন বাবুপাড়া, নয়াটোলা প্রভৃতি এলাকায় ভারে মাটি বিক্রি করে চলেছেন। তিনি জানান, বয়স হয়েছে, ছেলেরাও আর ভাত দিতে চায় না। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বাররাও বয়স্ক ভাতা ও রিলিফের মাল দেন না। তাই পেটের জ্বালা মেটাতে এই পথে নেমেছি। প্রতিদিন প্রায় ৫/৬ মাইল পথ পায়ে হেঁটে শহরে এসে ভারে মাটি বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :