মাগুরায় নালিম চাষে সাফলতা পেয়েছে চাষিরা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৩৭ AM, ২৫ জুন ২০১৬

মাগুরা সংবাদদাতা : মাগুরায় নালিম চাষে সাফল্য পেয়েছে চাষিরা। বাণিজ্যিক মুনাফার কারণে জেলার কৃষকদের কাছে অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বাঙ্গি জাতীয় মাঠ পর্যায়ের ফল নালিম । মাত্র ৯০ দিনে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়ায় জেলার অনেক কৃষকরা এখন নালিম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন । যে কাড়নে ক্রমশ বাড়ছে এটির বাণিজ্যিক আবাদ।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপু, হাজীপুর, রাঘবদাড় ইউনিয়নের নড়িহাটি, ইছাখাদা, শিবরামপুর, বিরপুর, মির্জাপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম এখন নালিম চাষের জন্য সুপরিচিত হয়ে উঠেছে ।

ইছাখাদার কৃষক রেজাউল ইসলাম, মোঃরতন আলী, ছালেক বিশ্বাস, মোঃ বাবলু মিয়া, মোঃও মর বিশ্বাস, মোঃ রইচ মন্ডল, মোঃ ছবুর বিশ্বাসসহ আরও অনেক নালিম চাষী জানান – প্রতি এক বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা । বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা । এটির আবাদে সার কিম্বা অন্য কৃষি উপকরন তেমন প্রয়োজন না হওয়ায় লাভ হয় বেশী । প্রতিবছর এপ্রিল-মে মাসে এটির আবাদ হয় । পাকে জুলাই-আগস্ট মাসে । মির্জপুর গ্রামের মোঃ ওমর আলী জানান,এবছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছেন। ১ লক্ষ টাকার বেশী মুনাফা হবে বলে আশা করছি । নড়িহাটির আশরাফুল ইসলাম জানান- এটি লিচু ও পেয়ারা বাগানের সাথি ফসল হিসেবে চাষ হয়ে থাকে। আবাদ পদ্ধতি বাঙ্গির মতই। তার ৫ বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ বাদে এবছর লক্ষাধিক টাকা মুনাফা অসবে । মাগুরা,ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা মাঠ থেকেই এটি সংগ্রহ করে নিয়ে যায় । আবার অনেক সময় ব্যাপারীরা ক্ষেতসহ পাইকাড়ি দরে কিনে নেয়, যে কারনে কৃষকদের পরিবহন খরচ লাগে না । একই গ্রামের আব্দুল মালেক জানান- এ বছর ২ বিঘা জমিতে তিনি নালিম লাগিয়েছিলেন । বিক্রি হয়েছে ৮৫ হাজার টাকায় । খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা মাত্র । বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে -নালিমের রঙ বাঙ্গিরই মতন। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ কিন্তু পাকলে গাঢ় হলুদ ও ব্যাপক সুগন্ধি । এ ছাড়া ফলটি চিনিমুক্তো স্বাদ বাঙ্গির মতই । ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য পুষ্টি সহায়ক। নালিম ফলটি আকারটা একটু ছোট ও গোলাকার। বর্তমানে নালিমের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন বিভিন্ন ক্ষেত থেকে একাধিক ট্রাক নালিম ভর্তি হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। নালিম ব্যবসায়ী মোঃ বদর উদ্দিন ও গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন- রমজানে এটির ব্যাপক চাহিদা তৈরী হয়েছে । প্রতিটি নালিম পাইকারী ৭ থেকে ৮ টাকা খুচরা ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাগুরার কৃষি সম্প্রসারনের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, ‘আজ থেকে প্রায় ১১ বছর পূর্বে আমার পরামর্শে লিচুর সাথি ফসল হিসেবে এই ফলটির চাষ শুরু হয়। বর্তমানে অত্র এলাকার কৃষকদের মাঝে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান, এই ফলটির বীজ সংরক্ষন পদ্ধতি খুব সহজ।’

মাগুরার সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাফিজ হাসান জানান-নালিম বাঙ্গির অনুরূপ একটি ফল। নালিম এটির স্থানীয় নাম । এটির বানিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমশ: বৃদ্ধি পাওয়াই ভবিষ্যতে এটির চাষ আরো বাড়বে। আমরা সে লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি ।

আপনার মতামত লিখুন :