বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হতে বাঁধা ছেলে

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৭ PM, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

বাগেরহাট সংবাদদাতা : বিদ্রোহী প্রার্থী ছেলে প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাবেন মা।

ঘটনা কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এখানে এখন প্রার্থী কেবল মা তসলিমা বেগমক ও ছেলে মেহেদী হাসান।

দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর বাবা আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মাহফুজুর রহমান কচুয়া উপজেলার চেয়ারম্যান।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মা তসলিমা বেগম। ছেলে মেহেদী হাসান মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছৈন। এমন অবস্থায় মা-বাবা মিলে তাকে বসানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ ছেলের।

কোনো অবস্থাতেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না জানিয়ে মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আমার বাবা আমাকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন। বর্তমানে আমি এলাকাছাড়া। নির্বাচনের মাঠ থেকে সরাতে বাবা আমার সন্তানদেরও জিম্মি করতে চেয়েছিল’। ‘২ মার্চের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আমাকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমার বাবা এবং তার লোকেরা আমার সন্তানদের জিম্মি করতে পারে এমন ভয়ে আমি তাদের সরিয়ে নিয়েছি’।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মা তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মেহেদী হাসান বলেন, ‘মা চেয়ারম্যান হলেও মূলত পরিষদ চালান আমার বাবা। তার (বাবার) অত্যাচারে এলাকার মানুষ জিম্মি ও অতিষ্ট। তাই এর প্রতিবাদে আমি প্রার্থী হয়েছি’।

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও মেহেদী হাসানের মা তাসলিমা বেগম ছেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার বা তার বাবার কোনো যোগাযোগ নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য তাকে কোনো হুমকি বা চাপ দেওয়া হচ্ছেনা। তবে কোনো নিকট আত্মীয় তাকে এ বিষয়ে কোনো অনুরোধ করেছেন কী না- তা আমার জানা নেই।‘

আপনার বিরুদ্ধে আপনার ছেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তসলিমা বেগম বলেন, ‘কি আর বলবো। সে প্রার্থী হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলের কাছে মনোনয়নও চায়নি সে’।

ছেলের সঙ্গে কোনো পারিবারিক দ্বন্দ্ব আছে কী না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তার বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য আছে। তবে এজন্যই ছেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছে কী না- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

প্রথম পর্ব ইউপি নির্বাচনের তফসিল অনুয়ায়ী এই ইউপিতে আগামী ২ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর মধ্যে  ছেলে মেহেদী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন মা তসলিমা বেগম।

একইভাবে মা নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাবেন ছেলে। এই সুযোগ নিতে চান দুজনই। তবে মায়ের পক্ষ নিয়েছেন বাবা।

মা-বাবা বনাম ছেলের এই দ্বৈরথে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :