বিএনপি’র মুখপাত্রের দ্বায়িত্বে রিজভী,বাদ পড়লেন রিপন

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৪৮ PM, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫

ডেস্ক রিপোর্ট : দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর মুক্ত পেয়ে বিএনপির দফতরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।  রিজভীর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনকারী ড. আসাদুজ্জামান রিপন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদে ফিরে গেছেন।
রিজভী আহমেদ শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পৌর নির্বাচনসহ সম-সাময়িক বিষয় নিয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন। ১১ মাস কারাভোগের পর এই প্রথম বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বললেন তিনি। এরপর দুপুরে বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি বাণী গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।  মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ বাণী দেন খালেদা জিয়া। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ শুক্রবার রাতে বলেন, রিজভী আহমেদই বিএনপির দায়িত্বে ছিলেন।  কিন্তু তিনি কারাগারে থাকায় আসাদুজ্জামান রিপন সাময়িকভাবে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।  রিজভী কারামুক্ত হওয়ায় এখন থেকে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।  ফলে রিপন এখন আর বিএনপির মুখপাত্র নন।  তিনি এখন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।
দীর্ঘ কারাভোগের পর গত ৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান রিজভী আহমেদ।  এরপর ১১ মাস ৫ দিন পর ৯ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে যান তিনি।  এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  কিন্তু বিগত আন্দোলনের (দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ) শুরুতে ৬ জানুয়ারি তিনি আটক হন।  এরপর দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। তবে এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি রাতে রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হয়ে পড়লে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ তাকে বসুন্ধরা এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যায়।  ওই সময় থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ করে দেয়।  এ্যাপোলো থেকে পরে রিজভী কাউকে কিছু না বলেই চলে যান।  তারপর তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থেকেই দলের দায়িত্ব পালন করেন।  পরবর্তীতে গত ৩১ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রিজভীকে গ্রেফতার করে।
রিজভী গ্রেফতার হলে এ দায়িত্ব দেয়া হয় আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে।  আন্দোলন চলাকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি দলীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরতেন।  কিন্তু গত ১০ মার্চ থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন।  পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে।  এরপর গত ১১ মে ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়।
সালাহ উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান।  তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর আরেক যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন।  আন্দোলন চলাকালে তিনিও অজ্ঞাত স্থান থেকে কর্মসূচিসহ দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
এদিকে, আন্দোলন চলাকালে দীর্ঘদিন গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর গত ৫ এপ্রিল বাসায় যান খালেদা জিয়া।  এর আগে তিন মাস বন্ধ থাকার পর ৪ এপ্রিল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেয়া হয়।  এর দু’দিন পর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নামে বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়।  ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।  খালেদা জিয়ার নির্দেশে তখন থেকেই তিনি মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমি বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব।  সুতরাং আমার যে দায়িত্ব আছে, সেটি আমি নিয়েছি।  উনি (রিপন) দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।  ফলে উনি (রিপন) উনার দায়িত্ব পালন করবেন।  এটি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :