বালিয়াডাঙ্গীতে অত্যাধুনিক কীটনাশকের ব্যবহার; বিভিন্ন রোগে আাক্রান্ত হচ্ছে কৃষক

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৪ PM, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মজিবর রহমান শেখ, বালিয়াডাঙ্গী(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ফসলে প্রতি বছরে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকার কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগে। কিন্তু তাদের সচেতন করার কোন উদ্যোগ নেই। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে কৃষকদের এব্যাপারে পরিমর্শ দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট মনে করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ধান পাট ও সাক সবজির চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবজি চাষের জন্য বেশি খ্যাতি রয়েছে। সারাদেশে যে পরিমাণ সবজির চাষ হয় তা অত্যন্ত ১৫-২০ ভাগ উৎপাদন হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত বছর ২ হাজার ৫শ ৪৬ হেক্টর জমিতে ধান, ১২ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে পাট ও ১২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এসব ফসল আবাদের সময় ব্যাপক হারে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গোয়ালকারী গ্রাম এলাকার রফিকুল ইসলাম কৃষক জানান, তাদের এলাকা ধান চাষের সময় প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২০০ গ্রাম করে তরল কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সবজি চাষের ক্ষেতে প্রতি ৩দিন অন্তর কীটনাশক স্প্রে করা হয়। এতে ১ মৌসুমে সবজি ক্ষেতে বিঘা প্রতি গড়ে ১ কেজি তরল কীটনাশকের দরকার হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ফসলের ক্ষেতে অনন্তত ১ থেকে ২ কোটি টাকার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয় ধান ক্ষেতে। এছাড়া পাট ফুল সবজি ও আমের মুকুলেও মাত্রাতিরিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জমিতে  মাত্রাতিরিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জমিতে ইচ্ছা মত কীটনাশক ব্যবহার থাকে। কতটুকু জমিতে কী পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত কিংবা ফসল তুলার কতদিন আগে সবজি থেকে কীটনাশক দেওয়া বন্ধ করা দরকার সে ব্যাপারে তাদের প্রতিষ্ঠানিক কোন ধারনা নেই।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাফিয়ার রহমান, ফসলের জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যহারের কারণে কৃষকদের নানা রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন তারা এ ব্যাপারে সচেতন করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।

বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবুল কাশেম জানান, কীটনাশক মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে যদি কেউ কীটনাশক মিশ্রিত শাক সবজি খায় তাহলে ঐ ব্যক্তি প্রথমেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হবেন।

আপনার মতামত লিখুন :