ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস আজ

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৪ PM, ২৬ অগাস্ট ২০২০

দিনাজপুর প্রতিনিধি : আজ ২৬ আগষ্ট, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস। ২০০৬ সালের এই দিনে ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন ফুলবাড়ীর সাধারণ মানুষ। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর তৎকালীন বিডিআর ও পুলিশের গুলিতে আমিন, সালেকীন ও তরিকুল নামের তিন যুবক নিহত হন। আহত হন দু’শতাধিক নারী-পুরুষ। ঘটনার ১৩ বছর পরেও পূরণ হয়নি সেই ৬ দফা দাবি। নাম বদলে আজও বহাল তবিয়তে আছে এশিয়া এনার্জি।

সেদিনের ঘটনার পর ফুলবাড়ী,পার্বতীপুর, বিরামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে ৩০ আগস্ট সে সময়ের সরকার দাবি মেনে নিয়ে ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ করতে বাধ্য হয়।

সেদিনের ছয়দফা চুক্তির মধ্যে রয়েছে এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী ও দেশ থেকে বহিষ্কার, উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লাখনি ফুলবাড়ীসহ দেশের কোথাও না করা, পুলিশ-বিডিআরের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা, গুলি বর্ষণসহ হতাহতের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন, শহীদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণসহ এশিয়া এনার্জির দালালদের গ্রেফতারসহ শাস্তি প্রদান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন করে মামলা না করা।

দাবিগুলোর মধ্যে নিহত ও আহতরা কিছু ক্ষতিপুরণ পাওয়া ছাড়া আর কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। উপরোন্ত নতুন করে ২টি মামলার আসামি হয়েছেন আন্দোলনকারী নেতারা। যে স্মৃতিসৌধটি রয়েছে সেটি সরকারি খরচে হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের অর্থে ছোট যমুনা নদীর ধারে করেছেন। সেটিও যেকোনো সময় নদীর স্রোতে ভেসে যেতে পারে।

অপরদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনের দু’জন নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দররক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম নেতা আমিনুল ইসলাম বাবলু খনি আন্দোলনের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ২০০৮ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক মুরতুজা সরকার মানিক পরপর দু’বার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আন্দোলনকারী নেতাদের মধ্যে পরষ্পর নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এতে করে আন্দোলনকারী নেতাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় তা অনেকটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এ কারণে নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমতে শুরু করেছে।

২৬ আগস্ট দিনটিকে তেল গ্যাস জাতীয় কমিটি ‘সম্পদ রক্ষা দিবস’ এবং সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন ‘ফুলবাড়ী শোক দিবস’ হিসেবে পালন করেন। দিবসটি উপলক্ষে নেয়া কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে স্মারণসভা এবং মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও পেগোডায় দোয়া এবং বিশেষ প্রার্থনা।

বিডি

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :