ফুলবাড়ীতে স্বেচ্ছাশ্রমে কালভার্টের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করলেন গ্রামবাসী

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩৮ AM, ০১ এপ্রিল ২০১৭

প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সূচনীপাড়ায় কালভার্ট নির্মাণ হলেও এপ্রোচ সড়কের অভাবে চলাচল করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার (৩০মার্চ) স্বেচ্ছাশ্রমে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করলেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার সাথে সূচনীপাড়াসহ ১০ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার জন্য গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্বাবধানে ৩২লাখ ৫২হাজার ৬৫৬টাকা ব্যয়ে সূচনীপাড়া স্কুল সংলগ্ন একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার কালভার্টটি নির্মাণ করলেও কালভার্টের দুই পার্শ্বে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করেই তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলামে যোগসাজসে কালভার্ট নির্মাণের সমুদয় বিলের অর্থ তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ফলে কালভার্টটি নির্মাণ হলেও জনগণের চলাচলে কাজে আসেনি।

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে সেই কালভার্টটি। ফলে বাধ্য হয়ে সূচনীপাড়া গ্রামবাসীরাই নিজ উদ্যোগে কালভার্টটি দিয়ে গ্রামবাসীর চলাচলের উপযোগী করতে স্বেচ্ছাশ্রমে এপ্রোচ সড়কসহ সূচনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সৈয়দপুর গ্রাম হয়ে মাদিলাহাট পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণ করেছেন। এর ফলে সূচনী স্কুল থেকে সৈয়দপুর গ্রাম ভায়া হয়ে মাদিলাহাট বাজারের যাতায়াত বেতদীঘি ইউনিয়নের মাদিলাহাট, সৈয়দপুরসহ দৌলতপুর ইউনিয়নের সূচনীপাড়া, হড়হড়িয়াপাড়া, কাঁথাওড়া গ্রাম, চেয়ারম্যানপাড়া, শরিয়তপুরসহ ১০ গ্রামের গ্রামবাসীরা এখন সহজেই উপজেলা সদরের সাথে চলাচল করতে পারবে।

উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও আওয়ামী যুবলীগ নেতা লাইজু হোসেন বলেন, সরকারের বিপুল অংকের অর্থ ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি জনসাধারণে চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগেই স্বেচ্ছাশ্রমে কালভার্টটি দুই পার্শ্বের এপ্রোচসহ সড়কটি নির্মাণ করেছেন। গ্রামবাসী সড়কটি নির্মাণ করলেও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডল বিষয়টি দেখতেও আসেননি।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রচেষ্টায় সূচনীপাড়া স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কালভার্টের দুই পার্শ্বে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ৪০দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির অর্থ দিয়ে এপ্রোচ সড়কের কিছু মাটি দেওয়া হয়েছিল। আগামীতেও সেখানে মাটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিরা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য গ্রামবাসী দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ কাজ করেছেন।

সাবেক উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বর্তমানে পার্বতীপুর উপজেলায় কর্মরত মো. তাজুল ইসলামকে তার ০১৭১৭০৭৩৯৯০ নম্বরের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :