প্রেমিকের বাড়ীতে অনশনরত প্রেমিকার আত্মহত্যার হুমকি; বাড়ীছাড়া প্রেমিক পরিবার !

সুনামগঞ্জ : বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনরত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক প্রেমিকা এবার আত্মহত্যার হুমকি দিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী ছিলানী তাহিরপুর গ্রামে প্রেমিক আরিফুল হকের বাড়িতে সালিসীগণের উপস্থিতিতে এ হুমকি দেন প্রেমিকা।

প্রেমিক আরিফুল উপজেলার ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের প্রভাবশালী এখলাছ মিয়ার ছেলে। ২০ বছর বয়সী প্রেমিকা একই গ্রামের দিনমজুরের মেয়ে।

জানা গেছে, উপজেলার ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের প্রভাবশালী এখলাছ মিয়ার বখাটে ছেলে আরিফুল একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের এক কিশোরী কন্যার সাথে গত আট বছর ধরে মন দেয়া নেয়া করে আসছিলো। এমনকি ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত আট বছরে একাধিক বার শারিরীক সম্পর্কও গড়ে তোলে আরিফুল। প্রভাবশালী পিতা এখলাছ দরিদ্র ও দিন মজুর পরিবারের কন্যাকে নিজের গুণধর ছেলের জন্য পুত্রবধু হিসেবে গ্রহন করতে অনিহা প্রকাশ করায় বাধ্য হয়ে গত কয়েকমাস পুর্বে ওই মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয় পরিবারের লোকজন।

কিন্তু নাছোর বান্দা আরিফুল অন্যত্র বিয়ের পরও সাবেক প্রেমিকাকে ফের বিয়ের আশ্বাসে নিজের টাকা কড়ি খরচ করে স্বামীর নিকট হতে তালাকপ্রাপ্তা বানিয়ে নিজ গ্রাম ছিলানী তাহিরপুরে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। সাবেক প্রেমিকার সাথে ফের অনৈতিকভাবে শারিরীক সম্পর্ক চালিয়ে যাবার এক পর্যায়ে গত রবিবার সন্ধা থেকে প্রেমিকা প্রেমিক আরিফুলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসে।

অনশরত অবস্থায় চতুর আরিফুল, তার মা বাবা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্য গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর এলাকার একদল দালাল শ্রেণির লোকজনকে টাকা পয়সা দিয়ে বশে নিয়ে এসে প্রেমিকাকে আরিফুল ও পিতা এখলাছ তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে প্রেমিকাকে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

এদিকে গ্রামের ও গ্রামের বহিরাগত সালিসী নামের কয়েকজন দালাল শ্রেণির লোক প্রেমিকের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চাপ সৃষ্টি করলে মঙ্গলবার রাতে প্রেমিকা সালিসগণকে সাফ জানিয়ে দেয় আরিফুল ফিরে না আসলে ও তাকে বিয়ে না করলে নিজেই আত্মহত্যা করবে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের অভিযুক্ত প্রেমিক আরিফুলের পিতা এখলাছ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, আমার ছেলে আরিফুল, আমি এমনকি আমার পরিবারের লোকজন বর্তমানে অন্যত্র আছি, ওই দিন মজুরের মেয়েকে পুত্রবধু হিসাবে আমার পরিবারের লোকজনের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

তবে উপজেলার ছিলানী তাহিরপুর গ্রামে অনশরত প্রেমিকা কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদকে বললেন, আরিফুলে সাথে আমার গত আট বছরের প্রেম, তার পরিবার আমাকে মেনে নেবেনা বিধায় আমার অন্যত্র বিয়ে হয় কিন্তু আরিফুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফের আমাকে তিন মাসের মাথায় আমার সাবেক স্বামীর ঘরছাড়া করেছে, আমার চরিত্রে যে কলংকের দাগ লাগিয়েছে আরিফুল এখন যদি সে আমায় বিয়ে না করে তবে আমার এ জীবন রেখে লাভটাই কী?

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার ওই মেয়ের পরিবারের পক্ষ হতে আরিফুল সহ তার পরিবারের লোকজনের ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সামাজিক ভাবে নিষ্পক্তির জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ উদ্যোগী হলে ভাল হত কিন্তু বিষয়টি সমাধান না হলে হয়ত আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।

বিডি

Leave a Reply