প্রসঙ্গ ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি; কিছু কথা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪১ PM, ১১ জুলাই ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর : ২৬ জুন ছিল মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস, তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তা পালন করে ২৮ শে জুন।এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “আগে শুনুন শিশু ও যুবদের প্রতি মনোযোগ দেওয়াই হলো-তাদের নিরাপদ বেড়ে উঠার প্রথম পদক্ষেপ”।
পৃথিবীর ভয়ংকর মাদকের মধ্যে অন্যতম ধরা হয়,ইনজেক্টিংকে।ভারতীয় নিষিদ্ধ ব্যাথা নাশক ইনজেকশনকে এদেশের যুবকেরা নেশা হিসেবে গ্রহণ করে।ব্রুফেনরফিন গ্রুপের টিডি জেসিক,লুব্রিজেসিক ও বিভিন্ন নামে পাচার হয়ে আসে বাংলাদেশে।২০০৮ সালে সারাদেশের ন্যায়,গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে,প্রিন্সিপাল রিসিপেন্ট হিসেবে সেভ দ্যা চিলড্রেন,ও কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালনায়, ঠাকুরগাওয়ে একটি অফিস সেবাদান কার্যক্রম শুরু করে।প্রথম দিকে জনমনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন জাগে।কেয়ার বাংলাদেশ হয়ত ইনজেক্টিং ড্রাগ ইউজারদের (idu) মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করছে। ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রম দেখে ধারণা পাল্টাতে থাকে।কেয়ার বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল এইচ.আই.ভি প্রতিরোধ, মাদক সেবীদের নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে আগ্রহ বাড়ানো। জিএফএটিএম-৯০৬, প্রজেক্টে কেয়ার বাংলাদেশ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে আই,ডি,ইউ দের শিক্ষা প্রাদান করতো, সেখানে মাদক শেয়ারিং,এইচ,আই,ভি,এস,টি,আই সহ নয়টি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো।এছাড়া অফিসে এনেও তাদের মাদকের কুফল সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে আসছিল।অফিসে ছিল বিনোদনের জন্য লুডু,ক্যারাম,দাবা ও পত্রিকা।এছাড়া তাদের গোছলের ব্যাবস্থা ছিল।মাসে অন্তত ২/১ জনকে বিনা খরচে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হোত রাজশাহীর আসক্ত পূনর্বাসণ কেন্দ্র (আপস)এ।২০১১ সালে কেয়ার বাংলাদেশ ঠাকুরগাও ও দিনাজপুরের হিলি অফিস পরিচালনার জন্য দেয়,চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি এন,জি,ও প্রয়াসের হাতে।কিন্তু ২০১৫ সালে তারা ঠাকুরগাওয়ে ইংজেক্টিং ড্রাগ ইউজার নেই এই অজুহাতে ঠাকুরগাওয়ের অফিস বন্ধ করে দেয়।এতে একদিকে কিছু কর্মী চাকুরী হারায় অপরদিকে ইনজেক্টিং ড্রাগ ইউজাররা বেওয়ারিশের মতো জীবনযাপন শুরু করে।শহরের রোড এলাকা, কলেজপাড়া, আশ্রমপাড়া, খালপাড়া, হলপাড়া, টিক্কাপাড়া, গোয়ালপাড়া, হাজীপাড়া,আদর্শ কলোণী সহ অনেক মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ইনজেক্টিং ড্রাগ ইউজার কমার বদলে বেড়ে গেছে অনেক।
আদর্শ কলোণীর এক ইনজেকশন বিক্রেতা জানান,অনেক নতুন নতুন মুখ ইদানিং ইনজেকশন নিতে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলপাড়া মহল্লার এক মাদকসেবী বলেন,ড্রাগ ইউজার কমেনি বরং অফিস ষ্টাফরা কাউকে সাময়িক ভাবে পাওয়া না গেলে তাদের আর খোঁজ নিত না।এটা অফিস প্রধানের উদাসিনতায় ছিল বেশি।কেয়ার বাংলাদেশের কার্যক্রমে কোন ইউজারকে একদিন না পাওয়া গেলে প্রয়োজনে তার বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নিয়ম ছিল,কেন তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা।কিন্তু অফিস ষ্টাফরা তা করতো না।কেয়ার বাংলাদেশ ইউজারদের বিনামূল্যে সিরিঞ্জ সরবরাহ করতো,যেন তারা শেয়ারিং করতে না পারে।এতে এস,টি,আই এইচ,আইভি,হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধ হতো।এছাড়া তারা বিনামূল্যে কনডম,নিডিল ও বিতরণ করতো, যাতে একজনের শরীরের রোগ অন্যজনের শরীরে প্রবেশ না করে।
সফল এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছিল অনেকেই।কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ হবার পর থেকে শুরু হয়েছে মাদক শেয়ারিং ও ককটেল।এতে বাড়ছে এইচ,আই,ভি সহ ভয়ংকর সব রোগের ঝুঁকি।সিরিঞ্জ, নিডিল ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।তাছাড়া ইউজাররা যেই সময় অফিসে বিনোদনে থাকতো, সেই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরিতে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
ঠাকুরগাও পৌরসভা ০৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কেয়ার বাংলাদেশ ঠাকুরগাও অফিসের ড্যাক কমিটির সাবেক সভাপতি শফিউল এনাম পারভেজ বলেন,অফিসটি থাকায় এক দিক দিয়ে আমরা নিশ্চিত ছিলাম কারা আই,ডি,ইউ এখন তা বোঝার ক্ষমতা নেই।তাছাড়া তাদের যে সেবা প্রদান করা হতো,তাতে তারা অনেক বড় ঝুঁকি থেকে বেঁচে থাকতো ও মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতো।এখন তাদের দেখার কেউ নেই,তাই তাদের অপরাধ প্রবণতা ও বাড়ছে।
জি,এফ,এ,টি,এম এর প্রজেক্টটি বর্তমানে জি,এফ,পি,ডাল্বু,আই,ডি নামে কার্যক্রম চলছে ঢাকা সহ মাদকাসক্ত এলাকায়।
ঠাকুরগাওয়ে বর্তমানে সরকারী অফিসের কর্মকর্তা সহ অনেকেই ঝুঁকছে মরণ মাদক ইনজেকশনে।ঠাকুরগাওয়ের আই,ডি,ইউ ও সুশিল সমাজ মনে করেন,প্রজেক্টের অফিসটি দ্রুত আবার ঠাকুরগাঁওয়ে তাদের কার্যক্রম চালু করা উচিত।এতে উপকৃত হবে আই,ডি,ইউ দের পরিবার সহ অনেকেই এবং সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :