পুকুর দখল লড়াইয়ে বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রায় ৫ শত পাট চাষী

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৭ AM, ৩১ জুলাই ২০১৬

হিমেল তালুকদার,স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফগদনপুর এলাকার পটুয়ায় পাট জাগ না দিতে পারায় বিপাকে পরেছে প্রায় ৫ শত পাট চাষী।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, উক্ত এলাকার ভরভরি নামে পুরোনো একটি পুকুরেই স্থানীয় পাট চাষীদের পাট জাগ দেওয়ার ভরসা ছিল। যার আয়তন প্রায় ১ একর ৯৬ শতক। প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে আশপাশের পাট চাষীরা পুকুরটিতে পাট জাগ দেয়। কিন্তু এবছর একটি মহলের বিভিন্ন প্রকার বাধা ও হুমকির কারনে ভয়ে পাট নিয়ে পুকুরে আসতে ভয় পাচ্ছে পাট চাষীরা। পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে পাট।

পুটুয়ার পাট চাষী আব্দুল খালেক জানান, বাপ দাদার আমল থেকে আমরা এই ভরভরি পুকুরেই পাট পঁচাই। পুকুর মালিক কৈলাশ চন্দ্র বর্মন পাটের মৌসুমে পুকুরে মাছ চাষ বন্ধ রাখেন। কিন্তু এবার হঠাৎ করে রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন, পুকুরে পাট আনলেই আমাদের মারধরের হুমকিদেয়। আশেপাশে কোন বিকল্প ব্যবস্থাও খুজে পাচ্ছি না। ফলে পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের কষ্টের ফলানো পাট।

সাবেক ইউ পি সদস্য পুকুর মালিক কৈলাশ চন্দ্র জানান, ১৯৭০ সালে পৈত্রিক অধিকারী প্রিয়নাথ দাস চৌধুরী হতে আমরা পুকুরটি ক্রয় করি। তখন থেকেই আমরা এই পুকুরের ভোগ দখলকারী। পুকুর পারে একটি মন্দির ছিল। হিন্দু জনগষ্ঠি পুজা পাট করত আর পাট মৌসুমে এই খানেই পাট জাগ দিত। তখন থেকেই এলাকার মানুষের অনুরোধে শ্রাবণ মাসে আমরা মাছ চাষ বন্ধো রাখি। কিন্তু রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কিছু জাল দলিল দেখিয়ে পুকুরের মালিকানা দাবি করছে। এই নিয়ে ঠাকুরগাঁও কোর্টে মামলাও চলছে। তবুও কোটের নির্দেশ অমান্ন করে অবৈধভাবে  মন্দির সংস্কারের কাজে ও পাটচাষীদের পাট জাগ দিতে বাধা প্রাদান করছে তারা। মন্দিরে কেউ পুজা করতে গেলে তাদের মারধর করছে। এনিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় আতংকিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক চন্দ্র বর্মন জানান, আমি ছোট থেকেই দেখে আসছি আশপাশের পাট চাষীদের পাট পঁচানোর একমাত্র আস্থা এই পুকুর। এই ভরভরি পুকুরের ভরসা করেই সকলে পাট চাষ করে। কারণ এলাকার পাশে কোথাও পাট জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। কিছুদিন আগে মন্দির সংস্কার এর সময় রফিকুল ইসলামের লোকজন এসে বাধা দেয় ও পুকুরে মাছ ছেরে দখলের চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাদের প্রতিহত করে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে ও হুমকির ভয়ে পাট নিয়ে পুকুরে আসতে ভয় পাচ্ছে পাট চাষীরা।

আপনার মতামত লিখুন :