পীরগঞ্জে মাল্টা ও কমলার পর এবার ফল এসেছে আপেল গাছে

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সফল চাষী আজাহারুল ইসলামের মিশ্র ফল বাগানে মাল্টা এবং কমলার পর এবার ফল এসেছে আপেল গাছে । সফল হলে আগামীতে বানিজ্যিক ভাবে চাষ করবেন তিনি। তবে কৃষি বিভাগ বলছেন, এখানকার আবহাওয়া আপেল চাষের উপযোগী না হলেও পরীক্ষা মুলক ভাবে চাষ করা যেতে পারে।

আজাহারুল ইসলাম জানান, রনশিয়ার চন্দ্রা গ্রামের বহরোল বিলের মাঝে প্রায় ৬ একর জমিতে দুই বছর আগে নদীর আদলে আকা বাকা পুকুর কেটে সেই মাটি দিয়ে চারদিকে উচু বেস্টনীর পাশাপাশি ১০ টি সমতল পাড় তৈরী করেন তিনি।

চারদিকে তারের বেড়া দিয়ে উচু বেস্টনী সহ প্রতিটি সমতল পাড়ে রোপন করেন সামার আপেল, মাল্টা, কমলা, কুল, সুইট লেমন, মিষ্টি জলপাই, কাজু বাদম, চেরি ফল, বারমাসি আম, পিচ ফল, কদবেল, মিষ্টি তেতুল, ভেরিগেট পেয়ারা, চুই ঝাল মসলা সহ নানা জাতের ফলের গাছ। গত বছর প্রথমবারের মত মাল্টা, কমলা, আপেল কুল, কাশমেরি কুল, বলসুন্দরী, নারকেল কুল, চেরি ফল, পিচ ফল, সুইট লেমন ও ভেরিগেট পেয়ারা গাছে ফল আসে। এবার চলতি মৌসুমে ঐসব গাছের পাশাপাশি প্রথম বারের মত ফল এসেছে সামার জাতের আপেল গাছে।

বাগানের একটি গাছের ডালে দুইটি আপেল ফল এখন বাতাশে দোল খাচ্ছে। আপেল গাছে ফল আসার খবর এরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।বাগান মালিক বলেন, বানিজ্যিক মনোভাব নিয়ে বাগানের অন্যান্য ফলেন গাছ লাগানো হলেও সামার জাতের আপেল গাছ লাগিয়েছেন শখের বশে। আপেল সহ তার বাগানের সব গাছের চারাই ভারত থেকে আনা। যশোরের একটি নার্সারীর মাধ্যমে চারা গুলি সংগ্রহ করেছেন তিনি।

ফলের বাগানের পাশাপাশি মাছ এবং হাঁস চাষও করছেন তিনি। এতে থেকে ভাল লাভবান হবেন বলে আশা বাগান মালিকের। তার আশা বাগান থেকে প্রতিবছর ১০ লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারবেন। তিনি অরো জানান, আপেল গাছে যেহেতু ফল এসেছে এবং আকার আকৃতি ঠিক বাজারের আপেলের মতই। সেহেতু এটার স্বাদও ভাল হবে এবং এটি বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে।সফল হলে আগামীতে বাণিজ্যিক ভাবে আপেল চাষ করবেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, এ এলাকার আবহাওয়া আপেল চাষের উপযোগী না হলেও পরীক্ষা মুলক ভাবে চাষ করা যেতে পারে। আজাহারুল ইসলামের ফলের বাগানে আপেল গাছে ফল ধরেছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি ফলাফল পাওয়া যায়।

বিডি

Leave a Reply