পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনদিনে ১৪ জনের লাশ উদ্ধার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০২ AM, ৩১ মার্চ ২০১৭

বাগেরহাট সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি নদীতে ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে মা-ছেলেসহ আরও ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৬ জন।এ নিয়ে এ ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনদিনে মোট ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পানগুছি নদীর পনেরো কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্নস্থান থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমান সরদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিনভর উদ্ধার অভিযানে মা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত লাশগুলো হলো-বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আলম চাপরাশির স্ত্রী সালমা বেগম (৩০), তার আঠোরো মাস বয়সী ছেলে সাজ্জাদ, একই উপজেলার কাছিকাটা গ্রামের প্রয়াত কাসেম শেখের ছেলে আব্দুল মজিদ শেখ (৭৫), নাসির শেখের ছেলে নাজমুল (৬), আলতি বুরুজবাড়িয়া গ্রামের প্রয়াত গফ্ফার হওলাদারের ছেলে সুলতান হাওলাদার (৫৫), হোগলাবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), বুরুজবাড়িয়া গ্রামের গফফার হাওলাদারের ছেলে আনছার হাওলাদার (৫০), গোপালপুর গ্রামের তবিবুর রহমান তোতার স্ত্রী মুন্নি বেগম (৪০) এবং শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা সামসুল হুদার ছেলে স্থানীয় রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আবির আল শামসের (১৫)।

এর আগে এ ট্রলার ডুবির ঘটনায় গত দুই দিনে আরো ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য মো. ওবায়দুর রহমান বলেছেন, এখনও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ, দমকল বাহিনী, নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ থাকা দু’জনকে জীবিত অবস্থায় খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া গেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এরা হলেন- মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের ভাইজোড়া গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) ও তার ছেলে জুবায়ের (১৪)।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

উদ্ধারকাজের নেতৃত্ব দেওয়া নৌ বাহিনীর কমান্ডার মো. শাহরিয়ার আকন জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত কাজ শেষ করেছি।

আজ সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং ঘাট ইজারাদারদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে।

 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বস বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উর্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলার ছোলমবাড়িয়া খেয়া ঘাট থেকে মোরেলগঞ্জ পুরাতন থানার ঘাটে যাওয়ার পথে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে এই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :