নিষিদ্ধ পলিথিনে মোড়ানো পোষ্টারে সয়লাব রাণীশংকৈল পৌরসভা; উঠেছে শব্দ দূষণের অভিযোগ!

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪০ PM, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ৪র্থ ধাপের ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে গত ২৭ জানুয়ারী প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে সমগ্র পৌরসভা।

প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন, দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিকসহ মাইক ও পোষ্টারে প্রচারণাও চালাচ্ছেন তারা।

এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ১২ মেয়র প্রার্থী ৩৩ কাউন্সিলর ও ১৩ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ৫৮জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। তবে প্রার্থীরা সরকারী আইন ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ পলিথিনে পোষ্টারে মোড়িয়ে তা রশিতে ঝুলাচ্ছেন। এদিকে মাইকে প্রচারণাও বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে প্রার্থীরা।

মাইকের উচ্চস্বরের কারণে পৌরসভার বাজারঘাটের ব্যবসায়ী অফিস আদালত হাসপাতাল ক্লিনিকসহ শিশু ও শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক শব্দ দুষণের প্রবলে পড়েছে। মাইকে প্রচারণার সময় বিভিন্ন ধরনের প্যারোডি গান সংযুক্ত করে উচ্চ আওয়াজে প্রচারণা চালায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌরবাসী।

তবে প্রার্থীরা বলছেন ভোটের প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার পূর্ব থেকে হয়ে আসছে এবং নির্বাচনী নীতিমালা অনুযায়ী তা প্রচার চালানো হচ্ছে। রাণীশংকৈল পৌর শহরে শব্দের মাত্রা ২০০ ডেসিবেলের ওপরে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি লোপসহ উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বোধ, অনিদ্রা, হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফিরোজ আলম বলেন, শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের ওপরে হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এ ‘নীরব’, ‘আবাসিক’, ‘মিশ্র’, ‘বাণিজ্যিক’ ও ‘শিল্প’এই পাঁচ এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে (ভোর ছয়টা থেকে রাত নয়টা) ৫০ ডেসিবেল ও রাতে (রাত নয়টা থেকে ভোর ছয়টা) ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫, রাতে ৪৫, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০, রাতে ৫০, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০, রাতে ৬০ ও শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫, রাতে হবে ৭০ ডেসিবেল।

বিধিমালায় শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম না করার শর্তে মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহার করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধানও আছে, কিন্তু রাণীশংকৈলে মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে এ বিধান মানা হচ্ছে না। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ১৮ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি প্রথম অপরাধের জন্য অনধিক এক মাসের কারাদন্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

এছাড়াও পলিথিনে পোষ্টার মোড়ানো প্রসঙ্গে প্রার্থীরা বলছেন শীতকাল হওয়ায়, ঝুলানো পোষ্টার শীতে ভিজে ছিড়ে পড়ে যাওয়ায় পলিথিন মাড়িয়ে পোষ্টার ঝুলানো হচ্ছে। স্থানীয় সচেতনমহল বলছেন,প্রার্থীরা তাদের পয়সা বাচানোর জন্য প্লাষ্টিকের ভিতরে পোষ্টার মুড়িয়ে ঝুলাচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচন শেষে এই পোষ্টার নিয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ে পড়বে পৌরবাসী।

তারা আরো বলেন, যদি একজন কাউন্সিলর ৫ হাজার সংরক্ষিত কাউন্সিলর ১০ হাজার ও মেয়র ১৫ হাজার পোষ্টার ছাপায় আর তা যদি পলিথিনে মুড়িয়ে ঝুলায় তাহলে মোট ৫৮ জন প্রার্থী পোষ্টার দাড়ায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার আর তা যদি পলিথিনে মোড়ানো হয় তাহলে সমগ্রহ পৌরসভায় পলিথিনে সয়লাব হবে বলে আশংকা পৌরবাসীর।

পৌরবাসীর অভিযোগ নির্বাচন অনুষ্ঠিত শেষে কে এই পলিথিন অপসারণ করে পৌরবাসীকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে?

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ২০০২ সালে সংশোধনী এনে পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। ‘সরকার নির্ধারিত পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে প্রথম অপরাধের দায়ে অনধিক ২ (দুই) বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২ (দুই) লাখ টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) বা উভয় দন্ড এবং পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বছর, অনধিক ১০ (দশ) বছরের কারাদন্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লাখ টাকা, অনধিক ১০ (দশ) লাখ টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন অপরাধীরা’।বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দায়ে অনধিক ১ (এক) বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। ‘পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের দায়ে অন্যূন ২ (দুই) বছর, অনধিক ১০ (দশ) বছরের কারাদন্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লাখ টাকা, অনধিক ১০ (দশ) লাখ টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন অপরাধীরা’

এবারের নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান(নৌকা),বিএনপি মনোনীত মাহমুদুন নবী পান্না বিশ্বাস(ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত আলমগীর হোসেন(লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর সরকার(ক্যারাম-বোর্ড), উপজেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক (জগ), পৌর আ’লীগের সম্পাদক রফিউল ইসলাম(কম্পিউটার), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নওরোজ কাউসার কানন(চামুচ), আ’লীগ নেতা সাধন বসাক (নারিকেল গাছ), আফম রুকুনুল ইসলাম ডলার(রেল ইঞ্জিন) ও নির্দলীয় মেয়র প্রার্থী মোকাররম হোসাইন(ইস্ত্রি) প্রতিকে ভোটের মাঠে প্রতিদন্দীতা করছেন।

তবে দুজুন প্রার্থী মোখলেসুর রহমান(হ্যাঙ্গার) ও আ’লীগ নেতা ইসতেখার আলী(মোবাইল ফোন) প্রতিক পেয়ে তারা নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আখি সরকার বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে জানান, পোষ্টারে পলিথিনের ব্যবহার ও মাইকের উচ্চ শব্দের বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখবো।

উল্লেখ্য, এ পৌরসভায় মোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী, এদের মধ্যে আ’লীগের বিদ্রোহীসহ ৮ বিএনপি বিদ্রোহীসহ-২ জাতীয় পার্টি-১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী-১জন। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারী। মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৭শত ০২ জন।

বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :