দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে শত বাঁধায় এগুচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের হকি কন্যারা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:০৯ PM, ২০ মার্চ ২০১৬

মো.সাদ্দাম হোসেন,ঠাকুরগাঁও : দারিদ্রতার কষাঘাত ও লোক সমাজের কুৎসা দমাতে  পারেনি সম্ভাবনাময় রুপিয়া আক্তার কে। পড়ালেখা ও খেলাধুলায় সুনাম কুড়িয়েছে সে। বাবা রফিকুল ইসলাম দুরারোগ্যে আক্রান্ত হয়ে কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। মায়ের সামান্য আয়ে চলে সংসার তাদের । চাল-চুলা ও ভিটে ছাড়া আর কোন সম্পতি নেই বাবার । দুই ভাইয়ের মধ্যে সে মেঝো। হকি খেলায় পারদর্শী হওয়ায় এলাকায় নাম পড়েছে তার হকি কন্যা। রুপিয়ার মত এরকম চৌদ্দ জন দরিদ্র স্কুল পড়–য়া ছাত্রী হকি খেলায় সেরা হয়ে উঠেছে।  এদের মধ্যে অনেকে জাতীয় পুরুষ্কার পেয়েছে।
এরা হলো, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর উচ্চ-বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এরা শুধু হকি খেলা নয়, ফুটবল,বাস্কেট বল,হ্যান্ড বল, ক্রিকেট, ও কাবাডিতেও পারদর্শী। ইতি মধ্যে আন্তঃস্কুল ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে হকি সহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে শীর্ষ স্থান লাভ করেছে তারা। ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রুপিয়া আক্তার স্বপ্ন দেখে হকি খেলায় বড় কিছু হওয়ার। কিন্তু তার সেই ইচ্ছে কী পুরন হবে ? এমন প্রশ্ন তাকে  ঘিরে ধরেছে। কারণ একদিকে ভরন-পোষন, অন্য দিকে পড়ালেখার খরচ মেটাতে মা হিমশিম খাচ্ছে। তার উপরন্ত খেলা ধুলার সামগ্রী কেনা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
একই অবস্থা সাথী আক্তারের। তার বাবাও পেশায় দিন মজুর। এই চৌদ্দ শিক্ষার্থী সবায় হত দরিদ্র ঘরের। কিন্তু অদম্য ইচ্ছেই এগিয়ে যাচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা। স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষক মাসুদ রানার একাগ্রতায় এই শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভায় বিকশিত হচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল আলম। তিনি বলেন ছাত্রীদের আগ্রহ দেখে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সামান্য সহযোগীতা দিচ্ছে। কিন্তু এদের এগিয়ে নিতে দরকার সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতার ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঐ সম্ভাবনাময় কিশোর বয়সী মেয়েদের সহযোগিতার জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বলা হয়েছে।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :