তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন সরকারি স্থাপনা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৬ PM, ১৫ জুলাই ২০১৬

নীলফামারী সংবাদদাতা : বন্যায় তিস্তা নদীর পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে। গত কয়েকদিনে ওই ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়, দুইটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি বাজার, ১০টি গ্রামের প্রায় ৫শ পরিবারের বসত ভিটা, রাস্তাঘাট, পুল কালভার্টসহ বহু আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চরের ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জির পাড়ার টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ৩৯ ফিট একটি ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই বন্যা ও ভাঙনের কবলে পরে পুরোটাই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এছাড়া বিএডিসির নির্মিত ১৭ ফিট একটি ব্রিজ, জিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট একটি ব্রিজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির অর্থায়ানে নির্মিত ১০ ফিট একটি ব্রিজসহ ওই ইউনিয়নের ১০ টি গ্রামের ৫শ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও ভাঙনের কবলে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প রক্ষা করতে পারেনি। ভাঙনের কবলে পরে দিনে দিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান গুলোর শেষ চিহ্ন টুকুও।

গত সোমবার বিকালে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি ভাঙনের পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, সোমবার বিদ্যালয়টি ৪০ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়টিকে শত চেষ্টা করেও আর আটকানো গেলনা। তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে পুরো বিদ্যালয়টি। শুধু দাড়িয়ে আছে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পাকা খুঁটি। এছাড়া দেবে যাওয়া ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিং দুমড়ে-মুচড়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। ক্লিনিক দু’টির ইট ধসে ধসে নদীতে পতিত হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জিঞ্জির পাড়ার মকছেদ আলী (৭৫) বলেন, “১৯৬২ সালে তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে যে পথ দিয়ে চলছিলো। এবারের বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে চলছে উল্টো দিকে। যার কারণেই আমাদের সবকিছুই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। যদি সরকারের পক্ষ হতে জরুরী ভিত্তিতে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া হতো তাহলে হয়ত আমরা বাঁচতে পারতাম।”

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, “এই ইউনিয়নের জনগণ ত্রাণ চায়না। চায় জরুরী ভিত্তিতে শক্ত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।”

তিনি বলেন, “এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, রাস্তাঘাট, পুল কালভার্টগুলো তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর নিঃস্ব হয়েছে অত্র ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৫শ পরিবার। তিস্তার ভাঙনের কারণে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত নেই।”

ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ জানান, বন্যা ও ভাঙনে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বসত ভিটা, ফসলী জমিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা  পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক নীলফামারী বরাবর পাঠানো হবে।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :