ডিজিটাল হতে কত বছর লাগবে টেলিফোন বিভাগের?

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:০৬ PM, ৩১ জানুয়ারী ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর : বিষয়টা হলো আমরা বৃটিশ উপনিবেশিক ঐতিহ্যের ধারক বাহক। মুখে তাদের যতই সমালোচনা  করিনা কেন তাদের রেখে যাওয়া  সকল নিয়ম-কানুন এখনো নিষ্ঠার সাথে পালন করি ৬৮ বছর পরেও।

বলছিলাম ঠাকুরগাঁও এ যে কয়টি বিলুপ্তপ্রায় সংগঠন আছে তাদের কথা । বিশ্বায়নের এই যুগে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষনা দিয়ে অনেকদুরই এগিয়েছে। দেশের মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনায়  তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে সে কারনে। তারা এই কাজ করছেন। ২০১০ সালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র বা ডিজিটাল সেন্টার  উদ্বোধন করেছেন যা বর্তমান সময়ে আরো উন্নততর হয়েছে।  ফলে একে বারে তৃণমুল পর্যায়ের গ্রামীন জনপদের মানুষ এই সুবিধা  গ্রহণ করে তাদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। ভিসন ২০২১ অনুসারে ঘোষিত সময়ের আগেই দেশ এখন মধ্যম আয়ের দ্বারপ্রান্তে  ।

সেই সময় টেলিফোন বিভাগ দাপ্তরিক চিঠি লিখে হাতে । টেলিফোন বিভাগের সমস্যার কোন অন্ত নাই।  টেলিগ্রাফ তো উঠে গেছে কবে। গত ১০ বছরে কেউ টেলিগ্রাফ করেছে বলে জানা নাই। অথচ সেই অফিসে কর্মচারী পাহারাদার , অফিস  সবই আছে। তাদের  কি কাজ  কেউ জানেনা। টেলিফোন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে লোকবল বলতে  যা বুঝায় তা তাদের নাই। টেলিফোনের বিল করা হয়  রংপুর রাজস্ব অফিস থেকে। তারা বিল করবে – গ্রাহকদের নিকট বিল পৌছাবে, গ্রাহক বিল দিবে এটাই নিয়ম হওয়ার কথা।  জানা গেছে বিল বিতরন করার জন্য স্থানীয় দপ্তরের কোন দায়িত্ব নাই। তারা খাতির করে বিল বিতরণ করে।  ফলে ৩/৪ মাস বিল অযতেœ অবহেলায় পরে থাকায় পর হঠাৎ করে ২/১ মাসের বিল গ্রাহকের কাছে আসলে গ্রাহক সে বিল দেয়। আর সে সব বিল পাওয়া যায়না সে বিল দেওয়ার কোন সুযোগ থাকেনা।  সে সব বিল অপরিশোধিত থেকেই যায়। ২/১ বছর পর বিল বাকী থাকার অপরাধে লাইন কাটার কাজটা  তারা বিনা নোটিশেই  করেন।

টেলিফোন বিভাগের আধুনিক যন্ত্রনা  অউঝখ ব্রডব্যান্ড কানেকশন। এটা নিয়ন্ত্রণ হয় ঢাকা থেকে। স্থানীয় অফিসের  কিছুই করার নাই।  যারা অনেক আশা করে অউঝখ   ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিয়েছিলেন -যন্ত্রনা সহ্যের সীমা  অতিক্রম করলে অধিকাংশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টা করেছে।  সমস্যা সমাধানের জন্য কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়না।  অফিসের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। একজন  উপসহকারী  প্রকৌশলী আছেন দাপ্তরিক কাজে অধিকাংশ সময় তাকে দিনাজপুরেই থাকতে হয়।  কোন বিল সংশোধন করার আবেদন জানালে সে সব আবেদন কার্যকরী হয়না।  কোন জবাব কখনোই পাওয়া যায় না। অন্যান্য  মোবাইল অপারেটররা যখন সেবা দেওয়ার জন্য  মানুষের দোড়গোড়ায়  যাচ্ছে – তাদের সেবা দোড় গোড়ায় পৌছে দিচ্ছে। সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য টি এন্ড টি নাম পরির্বতন করে ইঞঈখ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে  অউঝখ   সংযোগ রয়েছে। অউঝখ  স্পিড ভালো , খরচ কম, কিন্তু সংযোগ উত্তর সেবার অভাবে গ্রাহকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গত কয়েক মাসে কতটি এডিএস এল কানেকশন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তার তথ্য নিয়ে বিষয়টি পরিস্কার হবে।  টেলিফোন বিভাগের  কর্মদক্ষতা এবং উন্নয়নের নমুনা হিসাবে হাতে লেখা চিঠিটা ছাপানো হলো।  ২০১৫ সালে নভেম্বর  মাসে রংপুর রাাজশ্ব অফিস  থেকে ঠাকুরগাঁও উপ সহকারী প্রকৌশলীকে পত্র লেখা  হয়েছে হাতে। এই পত্রের মাধ্যমেই বুঝায় যায় টেলিফোন বিভাগের ডিজিটাল হতে আর কত বছর লাগবে। টেলিফোন বিভাগে যদি চালানো  সম্ভব না হয় তাহলে বেসরকারী কোম্পানীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক , মানুষ সেবা পাবে। প্রশ্ন উঠতে পারে বেসরকারী কোম্পানী বেশী ভাড়া নিবে। তাতে তো টেলিফোন  বিভাগের অসুবিধা নাই, না পারলেতো ছাড়তেই হবে। গ্রাহকরাতো  বেশী দামে বেসরকারী কোম্পানীর সার্ভিস নিচ্ছে। মানুষ  সার্ভিস চায়, যারা সার্ভিস দিবে তাদেরকেই পয়সা দিতে রাজী আছে। তবে বিটিসিএলকে বেসরকারী খাতে দিতে চাইলে অথর্ব / দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অফিসের ব্যানার টাঙ্গিয়ে, কর্মবিরতি দিয়ে , মানব বন্ধন করে  সরকারের গণবিরোধী (?) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে।  সাধারণ মানুষের সোজা সাপটা কথা  , তারা সার্ভিসের বিনিময়ে পয়সা খরচ করতে রাজী।  পারলে সেবা দেন না পারলে ছেড়ে দিন। সরকারের এই গুরুত্বপুর্ন সেবা খাতটি মুখ থুবরে পরে আছে। দুর্ণীতিবাজ কর্তা ব্যক্তিরা কৌশলে সরকারের এই সেবা খাতটিকে অকার্যকর করে রেখেছে কিনা তাও ভাববার সময় পার হয়ে যাচ্ছে।  এদিকে টেলিফোন বিভাগের  সমস্যার  কথা শোনার জন্য জেলা উন্নয়ন সমন্বয়  সভায় টেলিফোনের কোন প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকেন না । ফলে  কথা বলার জন্য লোক পাওয়া যায় না, বিষয়টা যাদের ভাবার কথা তারা যেন ভেবে দেখে।

কলামিস্ট ও অধ্যক্ষ-আবু মহী উদ্দীন

আপনার মতামত লিখুন :