ঠাকুরগাঁওয়ে সড়কে ধান লাগিয়ে এলাকাবাসির প্রতিবাদ !

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪১ PM, ০৮ অগাস্ট ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া কিসমত তেয়ারীগাও গোপিকান্তপুর গ্রামে চলাচলের দুুই কিলোমিটার একমাত্র রাস্তা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক পরিবারের তিন হাজার লোকজন।

স্থানীয় এলাকাবাসী নূর মোহাম্মদ (জিটু) সাংবাদিকদের জানান, আমরা এই এলাকায় প্রায় তিন হাজার লোক বসবাস করি কিন্তু চলাচলের জন্য রয়েছে একটি মাত্র রাস্তা। এই রাস্তাটিরও বেহাল দশা, এই রাস্তার কারনে আমরা কোন মালামাল গড়েয়া হাটে নিয়ে কেনা বেচা করতে পারি না। এমনকি জরুরী রোগী নিয়ে আমরা মহাবিপদে পড়ে গেছি, গর্ভবতী এক মহিলাকে গত ২৬ জুলাই রাত ১২ টায় লাশ নেওয়া খাটিয়ায় করে পাঁকা রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এমনকি একজন স্ট্রোকের রোগী বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে ভর্তি আছে তাকেও লাশের খাটিয়ায় করে নিতে হয়েছে। বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে ভটভটিতে দশ বস্তা ধান নিয়ে গড়েয়া হাটে পৌঁছাতে সময় লাগে তিন থেকে ৪ ঘন্টা অথচ দশ মিনিটের রাস্তা । তিনি ইউপি চেয়ারম্যান, সরকার ও উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট রাস্তাটি দ্রুত পাঁকা করণের দাবি জানান।

৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন রেনু বলেন, আমার এই এলাকার প্রায় দুই হাজার একর জমির আবাদ ও ফসল এই একটি রাস্তা দিয়ে আনা নেওয়া করা হয়। ব্রিটিশ শাসনের পর থেকে আমাদের এই এলাকায় কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, ১৯৮৮ সালে দশ ফিট পানির নিচে রাস্তাটি তলিয়ে গিয়েছিলো এবং ২০১৭ সালে ৪ ফিট পানির নিচে রাস্তাটি তলিয়ে যায়। দুখের বিষয় আমি একজন ইউপি সদস্য হয়েও এখন পর্যন্ত বার বার ধর্না দিয়েও ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা এমপি মহোদয় কারো কোন সহযোগিতা পাইনি।

এলাকার প্রবীন ব্যক্তি দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি একজন অবসর প্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার, আমার বয়স ৮৭ বছর, এই দীর্ঘ বছরে এখন পর্যন্ত আমার এলাকায় সরকারি কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। আমরা সরকারের কাছে আমাদের রাস্তাটির উপর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কৃষক হামিদ বলেন, এই রাস্তার জন্য ভ্যান বা গাড়ি কোন কিছু না পাওয়ায় আমার চার বিঘা মাটির প্রায় দুইশত মন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ধান গুলো হাটে নিয়ে যেতে পারিনি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে রাস্তাটি দ্রুত পাঁকা করণের দাবি জানাই।

বিডি

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :