ঠাকুরগাঁওয়ে পোলট্রি শিল্পে ধস;বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ খামার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৯ PM, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঠাকুরগাঁওয়ে পোলট্রি শিল্পে ধস নেমেছে। খাদ্য, ঔষধ, বাচ্চা ও পোলট্রি উপকরণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায়  ফলে এমনটা হয়েছে বলে মনে করছে তৎসংশ্লিষ্টরা।যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার বেশির ভাগ পোলট্রি খামার। বেকার হয়ে পড়েছেন এ শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শত শত শ্রমিক-কর্মচারী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি ধ্বংস হতে বসেছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খালেকুজ্জামান সুমন, মনির হোসেন, স্বপনসহ অনেকে জানান, বিপুল সম্ভাবনাময় এ শিল্প লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার কারণ রোগবালাই, বাচ্চা, খাদ্য ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। ৪ বছর আগেও একটি লেয়ারের বাচ্চার দাম ছিল ১৫-১৬ টাকা। বর্তমানে সেই বাচ্চার দাম ৮০-৮৫ টাকা হয়েছে। একই ভাবে ১৮-২০ টাকার বয়লার বাচ্চা ৭০-৭৫ টাকা ও সোনালী জাতের বাচ্চা ১৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৫ টাকা হয়েছে বলে জানান তারা।

তাছাড়া ১৫ টাকা কেজির বেডিফিট ৩৮-৪০ টাকা, পোলট্রি খাদ্য তৈরির উপকরণ ভূট্টা ১৩ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ টাকা, সয়াবিন প্রতি কেজি ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা ও মিটবোন মিল ৩২ টাকা থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তারা মুরগির খাবারের দাম প্রসঙ্গে আরও জানান, গত বছর প্রতি বস্তা প্রোটিন মাল্টি সি’র দাম ছিল ১৩ শত থেকে ১৪ শত টাকা আর এ বছর ২ হাজার ৪০০ টাকা। মিথুইনাইনের দাম ছিল প্রতি বস্তা ২৫০০ টাকা এ বছর তা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। লাইসিনের দাম ছিল প্রতি বস্তা ৩ হাজার টাকা তা বর্তমানে ৭ হাজার টাকা। ঝিনুক প্রতি বস্তা ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা। যার ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অতীতের সব রেকট ভেঙে প্রতি হালি ডিম এখন ৩৬-৪০ টাকা এবং প্রতি কেজি মুরগি ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি পুঁজির পোলট্রি খামারি আব্দুল হান্নান হানু, মমিনুর রহমান সহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি কোনো স্থানীয় নীতিমালা না থাকায় ভারতীয় ডিম, বাচ্চা ও ওষুধে এ দেশের বাজার দখল করে রেখেছে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানের ভার কাঁধে নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোলট্রি শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই ভূক্তভোগিরা এ শিল্প রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা পোলট্রি খামার মালিক সমিতি’র নেতা মহেবুল্লাহ চৌধুরী আবু নূর জানান, এ জেলার প্রায় ৮০ ভাগ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আর বাকি ২০ ভাগ মরার পথে। বেকার যুবকরা ঋণ নিয়ে খামার করেছিল আর হঠাৎ করে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়ার মতো এখানে কোনো ভ্যাটেনারি সার্জন নেই।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এটা ঠিক। তবে বর্তমানে এ জেলার অনেকেই খামার বন্ধ করে দিতে চাইলেও প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মচারীরা মাঠ পর্যায় যথারীতি তদারকি করে ও পরামর্শ দিয়ে খামারিদের লাভবান করার চেষ্টা করছেন।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :