1. [email protected] : admin : Antar Roy
  2. [email protected] : Bidhan Das : Bidhan Das
  3. [email protected] : tkeditor :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ৩০০ একর জমির ধান নষ্টের অভিযোগ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২০
  • ১২২ পঠিত

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকায় কয়েকটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শতাধিক কৃষকের প্রায় ৩০০ একর জমির ধান নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। করোনা দুর্যোগের এই সময় এমন ক্ষতিতে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। তাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইসাহাক মিয়া স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও বাড়ির গরু বিক্রয় করে অনেক কষ্ট করে প্রায় চার একর জমিতে ধান চাষ করেন। আশা ছিল ধান উঠলে তা বাজারে বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেও অন্তত ছয় মাস সংসারের খরচের চিন্তা করতে হবে না তাকে। কিন্তু ইসাহাক মিয়ার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস। ক্ষেতে ধানের পরিবর্তে হয়েছে শুধুই পাতান। শুধু ইসাহাক মিয়াই নন, একই অবস্থার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সে এলাকার প্রায় শতাধিক চাষি।

চাষিদের অভিযোগ, কৃষি জমির পাশে সরকারিভাবে ভাটা স্থাপন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে এলাকায় কৃষি জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভাটার তীব্র তাপ ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এ বছর ক্ষেতের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ভাটা মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যাপারটি সেভাবে আমলে নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুন অভিযোগ করেন, প্রায় প্রতিবছরই এই এলাকার কম বেশি অনেক কৃষকের ধানের শিষ ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে জ্বলে যায়। এ বছর তার পরিমাণ অনেক বেশি, যা বলে বুঝানো যাবে না। ধান রোপণ করতে জমি তৈরি করতে হালচাষ, সেচ, কীটনাশকসহ এর মধ্যে অনেক খরচ হয়ে গেছে। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এখন ক্ষেতে ধানের পরিবর্তে শুধুই পাতান হয়েছে, যার ফলে ক্ষেতে খড় ছাড়া আর কিছুই নেই। যা সম্পূর্ণই লোকসান ছাড়া আর কিছু নয়। শুধু তাই নয় ভাটার তীব্র গ্যাসে এলাকার আমের বাগান, লিচুর বাগান সহ অনেক ফলের গাছের ফল নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েও কোনো প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই।

একই এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, সরকার বারবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলেন যে, এই সরকার কৃষিবান্ধব, কৃষকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে বছরের পর বছর কৃষি জমির ওপর চলছে ভাটা ব্যবসা। ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের ফসল ও ক্ষেত। প্রশাসনকে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। সরকার শুধু মুখেই বলে কৃষিবান্ধব, আসলে বাস্তবে সে চিত্র ভিন্ন।

কৃষি জমির পাশে সরকারিভাবে ভাটা স্থাপন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে ভাটাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে এলাকায় কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভাটা দুটির তীব্র তাপ ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ধানের ক্ষেত ও ভুট্টার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ভাটা মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যাপারটি সেভাবে আমলে নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কথা জানান, এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় শতাধিক কৃষক।

ক্ষতির বিষয়ে ওই এলাকার একাধিক ভাটার একই মালিক শাহ জামাল লাভলু, আনোয়ার হোসেন লাল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দুজনেই ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। ভাটা চালানোর ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে কি-না সে বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নাই। তবে তারা জানান, ছাড়পত্র নেই তবে জেলা প্রশাসকের মৌখিক অনুমতি নিয়েই ভাটা চালানো হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, তিনফসলি জমি বা কৃষিজমির পাশে ইটভাটা স্থাপন না করার জন্য ইটভাটা মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। এরপর আইন অমান্য করে অনেকেই ভাটা স্থাপন করছেন বলেই এমন ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কৃষকদের এমন অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন দেখা যায় চারটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ধানের শিষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটি ক্ষতির বর্ণনা সহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা ও প্রস্তুতের কাজ শুরু করছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তালিকা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে শতভাগ তাদের ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে একটি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই কথা জানান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজলঅ আ’লীগের সভাপতি এ্যাড. অরুণাংশু দত্ত টিটো।

বিডি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর :

  © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ঠাকুরগাঁওয়ের খবর

Theme Customized By Arowa Software
You cannot copy content of this page