ঠাকুরগাঁওয়ের এক দিনমজুর যুবকের করুণ পরিণতি;মায়ের ভিক্ষার টাকায় চলছে ৬জনের সংসার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৮ PM, ১২ মে ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর : বাংলায় একটি প্রবাদ আছে “গাছে চড়িয়ে দিয়ে মই টেনে নেয়া”।ঠিক এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট বেংরোল নামক এলাকায়।মালিকের হুকুমে গাছে আম পাড়তে গিয়ে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে এক বছর যাবৎ বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বেলাল হোসেন(৩০) নামে এক যুবক। বর্তমানে মায়ের ভিক্ষার টাকায় চলছে তাদের এ সংসার।

বেলাল পেশায় একজন দিনমজুর,পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬জন।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে গত বছর আষাঢ় মাসে। পাশ্ববর্তী বাড়ী মাইনুলের বাসায় কাজ করছিলেন তিনি। এসময় তিনি গাছে চড়তে পারেন না একথাটি বার বার বলার পরও মালিক তার গাছের কিছু আম পেড়ে দেওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করেন।অগত্যা উপায় না পেয়ে গাছে উঠতেই পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।পরে এলাকাবাসী তাকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার বেলালের অবস্থা দেখে তাকে উন্নত চিৎিসার জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে রংপুর অথবা ঢাকা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলেন। কিন্তু সেই মুহুর্তে টাকার অভাবে তারা অসুস্থ্য বেলালকে রংপুর অথবা ঢাকায় নিয়ে যেতে পারেননি। সদর হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে এসে কবিরাজী চিকিৎসা করেন। পরে সহায়-সম্পদ যা আছে তা বিক্রি করে এবং এলাবাসীর সাহায্য নিয়ে মাসখানেক বাদে রংপুরে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানেও দেখা দেয় প্রতিবন্ধকতা।রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তার হাসপাতালে থাকতে বলেন এবং জানান এ মুহুর্তে তার অপারেশন করা যাবে না, মাস খানেক পরে তার অপারেশন করা হবে, আপনারা টাকার বন্দোবস্ত করেন। সেখানে ১৫দিন বিনা চিকিৎসায় থাকার পর সেখানকার এক ডাক্তারের পরামর্শে রংপুর ডক্টরস্ কমিউনিটি হসপিটালে ভর্তি হন।সেখানে ডাক্তার সবকিছু দেখে শুনে বলেন, তার একটা অপারেশন করতে হবে,তবে এতে শতভাগ সফলতা নাও আসতে পারে। তবুও সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে প্রায় ৪লাখ টাকা খরচ করে বেলালের মেরুদন্ড অপারেশন করেন।কিন্তু এ অপারেশন কোন কাজে আসেনি। তখন থেকে বেলাল বিছানায় শয্যাশায়ী।তার মুত্রনালীতে সারাক্ষণ লাগানো থাকে পাইপ। রাতে পরিবারের লোকজন তার অসার দেহটি তুলে ঘরে নিয়ে যায় আবার সকাল হলে বাহিরে বারান্দার বের করে দেয়।অসহায় বেলাল কিছুই করতে পারে না,চোখ দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। বাবা-মা দুজনেই সাহায্য তুলে দিনে দু’বেলা অন্য যোগাড় করতে পালেও তার চিকিৎসা চালাতে অক্ষম। বৃদ্ধ বাবা গত তিন দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় বর্তমানে তিনিও আর সাহায্য চাইতে বেরোতে পারেন না। এদিকে গাছে তুলে দেওয়া সে মালিক এতো খরচের পরও কোন রকম সাহায্যের হাত বাড়ায়নি।

এ ব্যাপারে রায়পুর ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানান, সবে মাত্র নির্বাচিত হয়েছি।দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর  পরিষদ থেকে সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

অসহায় পরিবারটির আর্তি ”সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ রয়েছে তারা যদি একটু সাহায্য সহযোগিতা করে। এলাকাবাসী মনে করে সমাজের বিত্তবানেরা একটু সাহায্যের হাত বাড়ালে হয়তো অসহায় পরিবারটি ফিরে পেতে পারে বেঁচে থাকার আশ্বাস”।

সাহায্য পাঠাতে পারেন-
বেলালের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর এর বিকাশ একাউন্টে।বিকাশ নং-০১৭১৭২২০৪৭১(পার্সোনাল)।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :