জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বনেতাদের

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৫ PM, ১৫ জুন ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসদমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বনেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সফল হবে বলে আশা করেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম নূরে হাসনা লিলি চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

সংসদ নেতা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এমন একটি বিষয়, যেকোনো আন্তর্জাতিক ফোরামের যেকোনো আলোচনায় সেটা আন্তর্জাতিক হোক, আর দ্বিপাক্ষিক হোক, সব সময় উঠে আসে। জি-৭ সম্মেলনে আমার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা প্রসঙ্গে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের যে পদক্ষেপ তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্ব নেতারা।

মাদারীপুর-৩ আসনের  সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিমের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন-৩১ এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ এশিয়াও বিস্তৃত হয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বাস্তবতায় নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক ও বিমসটেকের আওতায় বিভিন্ন  নিরাপত্তামূলক চুক্তি সমঝোতা স্মারক/কনভেনশন আছে। এসব চুক্তি/ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে বা হচ্ছে।

সার্কের সদস্যভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে এ জোটের ধ্যান-ধারণাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে মূল চেতনা ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিস্তৃতি ঘটিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিন এশিয়াকেও একটি দারিদ্রমুক্ত, শান্তিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বিমসটেক-এর সচিবালয়ের স্বাগতিক দেশ হিসেবে আমরা এ প্রক্রিয়াটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিকভাবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাদির মাধ্যমে আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহায়তা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এবং ভারতের মাধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা ও কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক, সীমানা সংক্রান্ত যৌথ ওয়াকিং গ্রুপের বৈঠক, বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন, মাদক নিয়ন্ত্রণ সহযোগিতার বৈঠক, জাল টাকা পাচার রোধে টাক্সফোর্স, মানব পাচাররোধে টাক্সফোর্স-এর বার্ষিক বৈঠক নিয়মিত ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

এসব বৈঠকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাজেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেত্রভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে, বলেন তিনি।

 

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :