ছেলেকে সুস্থ করতে নিজের রক্ত বিক্রি করতে চান বাবা !

সুনামগঞ্জ : ‘কেউ যদি রক্ত কিনতো ছেলের চিকিৎসার টাকার জন্য নিজের রক্ত বিক্রি করতাম।অভাবের সংসার আর ভালো লাগে না। অসুস্থ ছেলেকে একবেলা ঠিকমতো ভাত খেতে দিতে পারি না, কোনো রকমে যদি একবেলা খাবারের যোগান দিতে পারি, তাহলে খাবার মুখের সামনে দিলেই ছেলে বলে বাবা তুমি খাবে না, ছোট ভাই খাবে না, মা খাবে না’? ‘জবাবে না ভাজান তুমি খাও? তখন ছেলে আমার দুটি চোখের অশ্রু ফেলে বলে বাবা আমার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে আমি ভাত খাব না বাবা। এই স্বার্থপর পৃথিবীতে কেউ কি নেই, সমান্য সামান্য সাহায্য করে আমার ছেলেকে আবার আমার বুকে ফিরিয়ে দিতে পারে..!

-কথাগুলো বলছিলেন, সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার ২নং শ্রীপুর (দক্ষিণ) ইউপির সুলেমানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা অসুস্থ সাখাওয়াতের বৃদ্ধ পিতা মালিক মিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরিব ও অসহায় পরিবারের ছেলে সাখাওয়াত (২৪)। পেশায় একজন মৎস্যজীবী। সাখাওয়াতের বাবাও বৃদ্ধ। অভাব অনটনের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন সাখাওয়াত। কিন্তু একদিন মাছ ধরতে গিয়ে রাস্তায় জ্ঞান হারায় সাখাওয়াত। আর সেই জ্ঞান হারানো ছিল তার জীবনের কাল।

আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় চিকিৎসার কোনো সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার। মাসখানেক পূর্বে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সামান্য পরিমাণ সাহায্য উত্তোলন করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকার ফলে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয় সাখাওয়াতের পরিবার।

বর্তমানে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে তার পরিবারের কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসছে না। সাহায্যও করছে না কোনো ব্যক্তি বা সুশীল সমাজ। যার ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা ছেলেকে হারাতে বসেছে পরিবারটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরিব ও অসহায় পরিবারের ছেলে সাখাওয়াত। পেশায় একজন মৎস্যজীবী। সাখাওয়াতের বাবাও বৃদ্ধ বয়সী। অভাব অনটনের মধ্যে পরিবারে উপার্জনক্ষম কোনো ব্যাক্তি না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করে আসছেন সাখাওয়াতের পরিবার। সাখাওয়াতেই ছিল সেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।

কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থতায় ভুগছে সাখাওয়াত। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় চিকিৎসার কোনো সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার। কিছুদিন পূর্বে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সামান্য পরিমাণ সাহায্য উত্তোলন করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকার ফলে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয় সাখাওয়াতের পরিবার।

বর্তমানে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে তার পরিবারের কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসছে না। সাহায্যও করছে না কোনো ব্যক্তি বা সুশিল সমাজ। যার ফলে পরিবারের উপার্জনকৃত ছেলে হারাতে বসেছেন বৃদ্ধ বাবা। ছেলেকে বাঁচাতে কেউ কি এগিয়ে আসবে না জাতির কাছে প্রশ্ন অসহায় বৃদ্ধ বাবার।

সাখাওয়াতের চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী জানা যায়, সাখাওয়াতের মাসখানেক পূর্বে মাথায় টিউমার হয়েছিল। পরে তারা সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় কোনো ভাবে শুধু ব্রেইন টিউমার অপারেশন করেই তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে তার পরিবার।

ব্রেইন টিউমার অপারেশন করার পর বাড়ি ফিরলেও সুস্থ হয়নি সাখাওয়াত। সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়নি ব্রেইন টিউমারের ক্ষত। পরিবারের সদস্যরা বলছে, সাখাওয়াতের বর্তমানে এক হাত ও এক পা অবশ (নড়াচড়া করতে পারে না) সাখাওয়াতকে বাঁচাতে হলে পূর্ণ চিকিৎসা করতে হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, আমরা হাওর পাড়ের মানুষ, দিন আনি দিন খাই, তারপর সাখাওয়াতকে বাঁচাতে আমরা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে হেঁটে সাহায্য তুলছি কিন্তু করোনায় কারো আয় রুজি তেমন নেই তাই আমার দাবি জানাই, সাখাওয়াতের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বা আর্থিক সচ্ছল যে কোনো ব্যক্তি যেন নেয়।

সাখাওয়াতের বৃদ্ধা বাবা ‘মালিক মিয়া’ বলেন, গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সায় সাহায্য করে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলাম, সেই টাকা দিয়েই ব্রেইন টিউমার অপারেশন করাই সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখন ছেলেটা সুস্থ না হওয়ায় আবার চিকিৎসা করাতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কথাও বলতে পারে না সে। হাতে নেই টাকা। কি করে জোগাড় করি চিকিৎসার টাকা। কতদিন যাব মানুষের কাছে। আগামীকাল যে ভাত কাইমু সেই টাকাও নাই। এখন ওই অসহায় মানুষকে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও দেশ-বিদেশের অবস্থানরত সকল ভাই-বোনদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সহযোগিতাই পারে আমার সন্তানের চিকিৎসা করিয়ে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।

অসুস্থ সাখাওয়াত বলেন, সেই ছোট বেলা থেকে আমার বাবা কষ্ট করে আমাকে বড় করেছিলেন, তিনি আমার ওপর বিশ্বাস ছিল একদিন তার সব কষ্ট আমি দূর করে দেব। হ্যাঁ সেই কষ্ট আমি দূর করে দিয়েছিলাম, যখন আমি সুস্থ ছিলাম সৎ পথে থেকে আমার বাবা, মা, একমাত্র ছোট ভাইকে তিনবেলা ভাত খাওয়াতে পেরেছি, তবে সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার অনুরোধ আমি যদি চিকিৎসার অভাবে মারাও যাই তাহলে আমার মত ওই অসুখ আর কারো জেন না হয় কারণ আমি জানি ঐ অসুখের কত জ্বালা।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, উপজেলা পরিষদে মানবিক ফান্ড না থাকায় উপজেলা পরিষদ থেকে সাহায্য করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি আমি দেখব অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য সাহায্য করা যায় কিনা।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি, চিকিৎসার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা করার ব্যবস্থা করা যায় কিনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেয়া ব্যবস্থা করব।

ডেস্ক/বিডি

Leave a Reply