চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ট ৩ বোন; জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৫১ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০১৬

আব্দুল আওয়াল : জমি-জমা থাকা সত্তেও পিতৃহারা অসহায় তিন বোন ঝর্ণা আলম, সাবিনা আলম ও ফারজানা আলম গত ১০ বছর ধরে বে-দখল হয়ে আছে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে। তাদের বৃদ্ধা মাতা শরিফা বেগম এ সম্পদ ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ওসি সদর ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন মহলের নিকট দেন-দরবার করেও তাদের কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার রায়পুর এলাকার বাকশিরি গ্রামে এ তিন বোনসহ চাচা ও চাচার পরিবার প্রত্যন্ত গ্রামে নিজস্ব একটি বস্তি জুরে একসঙ্গে বাস করতো।
জানা যায়, তিন বোন তাদের পিতা মনজুর আলম গত ২০০৬ সনে মৃত্যু বরন করেন। সেই সময়ে তার পিতা ও মাতার এই পরিবারে তাদের জমি ছিল ৪১ বিঘা। এ জমি-গুলোর মধ্যো ছিল ১৪টি পুকুর, ১ টি হাসকিং মিল, ১টি গরুর খামার ও চাষাবাদযোগ্য জমি। এদের পিতার মৃত্যুর পর ওই জমি-গুলোর পর্চা হয় তাদের পিতা ও মায়ের নামে। তাদের পিতার মৃত্যুর এক-বছরের মাথায় তার চাচা ইসহাক আলী বর্তমান কর্মরত সচিব সদর উপজেলা দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ। তিনি ও তার অপর ভাই মৃত সামসুল আলমের চার ছেলে মমিনুল, শফিকুল, রেজাউল ও নাজমুল ওই তিন বোনের পিতার ৪১ বিঘা জমির মধ্যে ১৫ বিঘা দখল করে তারা নিজ চাষাবাদে ভোগ দখল করে আসছে। অবশিষ্ট ২৬ বিঘা জমিতে পুকুর, গরুর খামার ও হাসকিং মিলটি পরিত্যাক্ত করে রেখেছেন। গাছগুলো কেটে ফেলছেন এবং তা বিক্রি করেছে তাদের চাচা ও চাচতো ভাইয়েরা। এমতাবস্থায় মায়ের সংসারে তিন বোন মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তিন বোনের ছোট বোন ঝর্ণা আলম জানান, তাদের লেখাপড়ার খরচ, ভরণপোষন, খাওয়া দাওয়া ও চলাফেরার উপর চাচা-চাচাতো ভাইদের হিংস্বাত্বক ছোবলে আমরাা এখন চরম দুর্ভিক্ষ ও অসহায় হয়ে এই প্রত্যন্ত গ্রামে মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে ওই গ্রাম ও তাদের বসত ভিটা ঘুরে জানা যায়, তাদের চাচা ইসহাক আলী জোর করে ওই তিন বোনকে ওই সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চায়। বাড়িঘড়, সম্পত্তি গুলো তার চাচা নিয়ন্ত্রনে রাখতে চায়। এ ব্যবস্থার কৌশল হিসেবে ইসাহাক আলী বেছে নিয়েছেন ভাতিজা গুলোকে দিয়ে তিন বোনের উপর ও চাচা ইসহাক আলী তাদের মা’ এর উপর চালাচ্ছে নির্যাতন। সম্প্রতি তিন বোনের বড় বোন ফারজানা আলমকে তার মা পরিবারের অভিভাবকের প্রয়োজনে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের দিনেও তার চাচা চরম প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বিয়ের অনুষ্ঠান ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য, কিন্তুু গ্রামবাসি ছুটে এসে তা প্রতিরোধ করেন। ফারজানা আলমের স্বামী এ গ্রামে তার শশুর বাড়িতে আসলেই শুরু হয় জামাইর উপর চাচা ও চাচতো ভাইদেরদের নির্যাতন, মারপিট ইত্যাদি করতে থাকে ফলে সে জামাইও এ বাড়িতে মৃত্যুর ভয়ে আসে না।
এ বিষয়ে ইতো পূর্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপার ও আদালতে বিচার চাইলে তার চাচা ভাতিজারা আইনের প্রতি সাময়িক শ্রদ্ধাশীল ও লিখিত আপস নামা করলেও পরবর্তীতে আবারো নির্যাতন ও দখল দারিত্ব শুরু করে।  এভাবেই পরিবারটিকে আবারো চরম হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।
বড় বোন ফারজানা আলম জানান, সে এইচ.এস.সি ছাত্রী ছিল। তার দ্বিতীয় বোন ও ছোট বোন এস.এস.সি শ্রেনীতে লেখা পড়া করছে। চাচা ও চাচতো ভাইদের নির্যাতনে তার লেখাপড়া করা হয়নি। সে তার বোনদের লেখাপড়া করার পরিবেশ চায়। সে আরো জানায় তারা কারো আর্থিক সাহায্য চায়না, তারা নিরাপত্তা চায়, তাদের পিতা ও মায়ের জমি গুলো চাচাদের কাছে দখল কৃত জমি ফেরত চায়।
তারা এ থেকে পরিত্রান পেতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। জেলা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :