চলন্ত বাসে গণধর্ষনঃ চালকসহ গ্রেফতার ৩; স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৯ PM, ০২ এপ্রিল ২০১৬

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশী রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট লোনা ফেরদৌস এর আদালতে ধর্ষক আব্দুল খালেক ভুট্রো স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। অপর আসামী বাসের চালক হাবিবুর রহমান নয়ন ও সুপারভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল প্রত্যেকে ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিকে একই আদালতে ভিকটিম ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে ধনবাড়ি থানায় ৯জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের সহয়তায় ধনবাড়ি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধনবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড থেকে ঘটনার সাথে জড়িত বাসের চালক হাবিবুর রহমান নয়ন, সুপারভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল ও হেলপার আব্দুল খালেক ভুট্রুকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশ বাসটিও আটক করে।
ধর্ষিতার স্বামী (বখতিয়ার) জানান, বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) গাজীপুর থেকে তার খালার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী দত্তপাড়া বেড়াতে যায়। পরে শুক্রবার সকালে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে টিকিট কেটে বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে উঠে। এসময় বাসটির চালক ও চার স্টাফ তাকে একাই নিয়ে রওনা হয়। পরে বাসটি গন্তব্যে না গিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের দিকে যেতে থাকে। এতে গৃহবধূ জিজ্ঞেস করলে বাসের স্টাফরা তাকে মারধর ও সব জানালা-গেট বন্ধ করে দিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেধে ফেলে। পরে একে একে বাসের চালকসহ তিনজন তাকে গণধর্ষন করে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে উদ্ধার দুপুরে এ ঘটনার বিচারের দাবীতে টাঙ্গাইল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে গেলে সেখানে ধর্ষকরা সবাই উপস্থিত ছিল। এ ঘটনার মিমাংসা করার জন্য ৬ এপ্রিল দিন ঠিক করে শ্রমিক নেতারা। পরে স্বামী গৃহবধূ অসুস্থ্যতা বোধ করলে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রেহেনা পারভীন জানান, গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, এ ঘটনায় ৯জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরপরই রাতেই ধর্ষণের সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সহযোগীদেরও গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু জানান, ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিনজন শ্রমিককেই টাঙ্গাইল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :