ঘূর্ণিঝড় “রোয়ানু”র তান্ডবে প্রাণ গেল ২০ জনের

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩০ AM, ২২ মে ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কবলে পড়ে চট্টগ্রাম, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও পটুয়াখালী ও ফেনীতে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিভিন্ন জেলার শতাধিক ঘরবাড়ি। ঘর ও গাছের নিচে চাপাপড়ে আহত হয়েছেন কয়েকশত লোক।

কক্সবাজার  জেলায় ’রোয়ানু‘তে এ পর্যন্ত  তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন উপকূলীয় উত্তাল সাগরে দুটি ট্রলারের চাপায় ফজলুল হক (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কৈয়ারবিল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে দুপুরে একই ইউনিয়নের ধুরুং গ্রামের ঝড়ের কারণে ঘরের মাটির দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে আবদুর রহিমের ছেলে মো. ইকবালের (২৫)।আর বিকালে বিকালে পুলিশ সৈকত থেকে উদ্ধার করে ফকির আলম (৪৯) নামে এক জেলের লাশ। তিনি ওই ইউনিয়নের তাবলেরচর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতের টানে ভেসে তার মৃত্যু হয়।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে কক্সবাজারের প্রায় ২৮ কিলোমিটার উপকুলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড পাঁচটি উপজেলার অন্তত ১৮০টি গ্রাম। এসব গ্রামে কমপক্ষে ৫০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব গ্রামের গৃহহীন প্রায় ৮৪ হাজার লোকজনকে ১৫৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা ও খুটি ভেঙ্গে পড়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় বিদু্ৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংসা থোয়াই জানান, লাশ তিনটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গাছ ও ঘরের দেয়াল চাপায় উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে আরও সাত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের কুতুবদিয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা জানায়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে জেলায় মোট নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় দুই শিশুসহ সাতজন ভেসে যায়। পরে এদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন, খানাবাদ ইউনিয়নের আবু সিদ্দিক (৫৫), বুলবুল আকতার (৫৭), জালাল আহমদ (৩৮) ও হোসেন আহমদ (৭)। এছাড়া চরোয়া ইউনিয়নের তিন বছরের শিশু তাহেরা বেগম। অন্য দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জামান জানান, বিকালে জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে সাতজন ভেসে যায়। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ, গণ্ডামারা, শেখের খিল ও ছনুয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গণ্ডামারায় আড়াইশর মতো এবং ছনুয়ায় তিনশর বেশি ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে জঙ্গল ছলিমপুর গ্রামে ঝড়ে গাছের চাপায় ঘরের চাল ভেঙে মা ও শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই গ্রামের লোকমানিয়াঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়ের নাম কাজল বেগম (৪৮)। ছেলের নাম মো. বেলাল হোসেন (১০)।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানুর’ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই এলাকার সব বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়। রাত একটার দিকে কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে চলে যায়। ঝড়ে কাজল বেগমের টিনশেড ঘরের ওপর বড় একটি গাছ আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের চাল ভেঙে পড়ে তিনি ও তার ছেলে মারা যান।

নাজমুল বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথটি পাহাড়ি ও পিচ্ছিল হওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। তবে তারা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলায় জোয়ারের পানির তোড়ে হাতিয়ায় মা-মেয়েসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের মিনারা বেগম (৩৫) ও ১০ বছরের মেয়ে মরিয়মনেছা এবং জাহাজমার ইউনিয়নের রিপুলা বেগম (৪৭)।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মইনুদ্দিন বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জোয়ার আসতে দেখে আসবাবপত্র রক্ষা করতে ঘরে ঢোকেন তারা। এর মধ্যে জোয়ারের পানি এসে পড়ায় তারা আর ঘর থেকে বের হতে পারেননি। এ ছাড়া নিঝুম দ্বীপ, নলিছড়া, চরেশ্বর, চরকিং, তমরুদ্দি, বয়ারচর, নলেরচর এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ৪-৫ শ কাঁচা ঘর।

ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে ঘর ভেঙে চাপা পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তজুমদ্দিন উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তজুমদ্দিন এলাকার নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম(৩৫) এবং একই এলাকার মফিজের ছেলে  মো. আকরাম হোসেন (১২)।

আহত ব্যক্তিদের তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক(ডিসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ঘর ও গাছের নিচে চাপা পড়ে অনেক লোক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছে।

ডিসি আরো জানান, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজনে নিহতের পরিবারকে আরো আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলায় শুক্রবার রাতে ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে নয়া বিবি (৫০) নামের এক নারী মারা গেছেন। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর। নয়া বিবির বাড়ি উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুরের নিজারাবাদ গোপালদি গ্রামে।

দশমিনার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সিকদার নজরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে উপকূলীয় এই উপজেলার গাছপালাসহ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলা ঝড়ে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করা হচ্ছে।”

লক্ষ্মীপুরে ঝড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে সদর উপজেলার তোওয়ারিগঞ্জ এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।নিহত আনোয়ার উল্লাহ (৫৫) ওই এলাকার বশির উল্লাহর ছেলে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক সাজ্জাদুর হাসান।

ফেনীতে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু দুপুরে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানলে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়ার জেলে পাড়া এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এক রাখালের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত নুর আলম (৩৪) এ বাড়ি চরচান্দিয়ার জেলে পাড়া এলাকায় বলে জানিয়েছেন সোনাগাজীর ইউএনও শরীফা হক।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :