গাজীপুরের ম্যাট্রিক্স সোয়েটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড;ক্ষতির পরিমাণ ১৫০কোটি

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০০ AM, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ম্যাট্রিক্স সোয়েটার কারখানায় বুধবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, উলের সুতাসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে অত্যাধুনিক ওই কারখানার অষ্টম তলা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাজীপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী, কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর, সাভার ইপিজেড ও ঢাকা সদর দপ্তরসহ ২৪টি ইউনিট পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ওই কারখানায় দুবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটল। আগুন লাগার পর আশপাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ দেড় শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহনসহ আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। আগুন আতঙ্কে ছুটি ঘোষণা করা হয় আশপাশের সাত-আটটি কারখানায়।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান লিটন জানান,  মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশাল আয়তনের কারখানার অষ্টম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আশপাশের এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের  পাঁচটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আগুন নেভাতে শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে ঢাকা সদর দপ্তরসহ আশপাশের ফায়ার সার্ভিসগুলোকে খবর দেওয়া হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অ্যারিয়েল প্ল্যাটফর্ম লিভার মেশিন (বিশেষ ধরনের হাইড্রোলিক মই) নিয়ে ঢাকা সদর দপ্তরসহ অন্যান্য ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নেভাতে যোগ দেয়। এ লিভার থেকে নিরাপদে ২৫ তলা উঁচু ভবনে পানি দেওয়া সম্ভব। কারখানার বহু শ্রমিকও আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেন।

কারখানার নিরাপত্তা রক্ষী আনোয়ার হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৮টার কিছু আগে থেকে শ্রমিক-কর্মকর্তা কারখানায় আসতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অষ্টম তলার পেছনের দিকে আগুন জ্বলতে দেখে মোবাইলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক-কর্মচারী ছিলেন না। কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন পুরো অষ্টম তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন)  মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, কারখানার প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ৭০ হাজার বর্গফুট। অষ্টম তলার ওই ফ্লোরে বিপুল পরিমাণ তৈরি সোয়েটার, উল, অ্যাক্রোলিক ও সিনথেটিকজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিল। তাই আগুন মুহূর্তেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে।  আগুন থেকে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া এবং সোয়েটারের অ্যাক্রোলিক ও সিনথেটিকজাতীয় উপাদান থেকে সৃষ্ট গ্যাসের কারণে আগুন নেভাতে বেশি সময় লেগে যায়।

কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকেও কারখানায় আগুন লেগেছিল। কারখানার নিজস্ব ফায়ারকর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ওই ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় মঙ্গলবার ফের আগুন লাগার সময় কারখানায় কোনো শ্রমিক-কর্মচারী ছিল না। শ্রমিকরা আরো বলেন, কর্মকর্তারা তাঁদের জানিয়েছিলেন গতকাল মঙ্গলবার শিপমেন্ট এবং বুধবার বিদেশি বায়ার আসবেন। তাই শিপমেন্ট এবং বায়ার আসার আগে আগুন লাগার বিষয়টি রহস্যজনক। তাঁরা মালামালের পরিমাণ যা বলা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

ম্যাট্রিক্স সোয়েটার কারখানার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আনোয়ার সাদাত জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা কোনো নাশকতা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। শিপমেন্ট এবং বায়ার আসার খবর সঠিক নয়। সোয়েটার কারখানায় এখন অফ সিজন চলছে। তার পরও তাঁরা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে মাল মজুদ করে অষ্টম তলায় রেখেছিলেন। আগুনে শত কোটি টাকার তৈরি সোয়েটার পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সুতা ও অন্যান্য বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন পুরোপুরি নেভার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ না করে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বলা যাবে না। তবে তা দেড় শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :