গরুর বদলে জোয়াল কাঁধে নিয়ে ঘানি টানা সেই ‘দম্পতি’ পেল গরুসহ আর্থিক সহায়তা

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২০ PM, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ গরুর অভাবে নিজেই ঘানি টেনে তেল তৈরি করে সংসার চালানো ছাইফুল ইসলামের পাশে দাঁড়ালেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর, পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা ও দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ছাইফুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে একটি গরু অনুদান হিসেবে দেন এসপি এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়েও একটি গরু অনুদান দেন জেলা প্রশাসক।
এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ছাইফুল ইসলামের ঘর তৈরি ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচের জন্য এক লাখ টাকা দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সহধর্মিণী আফরোজা বেগম। আর ঘানি টানার জন্য একটি গরু কিনে দেয় বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
ছাইফুল ইসলাম (৪৪) লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, বাড়িতে ঘানি ভেঙে সরিষা তেল তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা ছাইফুল ইসলামের পৈত্রিক পেশা। আধুনিক যুগে ঘানি তেলের চাহিদা কমে গেলেও পৈত্রিক পেশা আঁকড়ে ধরে ২০ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ঘানি টানতে গরুর প্রয়োজন হলেও ছাইফুল ইসলামের গরু কেনার টাকা ছিল না।
কোনো উপায় না পেয়ে তিন সন্তানের লেখাপাড়ার খরচসহ পাঁচজনের সংসার পরিচালনায় গরুর পরিবর্তে তিনি নিজেই তেলের ঘানি টানেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।
গরুর অভাবে নিজেই তেলের ঘানি টানেন এমন একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ঠাকুরগাঁওয়ের খবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বসহকারে খবরটি প্রকাশিত হয়। এরপর বসুন্ধরা গ্রুপসহ প্রশাসনের অনেকের নজরে আসে ছাইফুল ইসলামের কঠোর সংগ্রামী জীবনের করুণ চিত্র। এটি দেখে অনেকেই তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ছাইফুল ইসলামের  বাড়িতে এক লাখ টাকা পাঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী আফরোজা বেগম। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের পক্ষ থেকেও তাকে একটি গরু কিনে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছাইফুল ইসলামকে সহায়তা করতে একটি গরু নিয়ে তার বাড়িতে যান লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আতিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) তাপস কুমার, কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল হক শহিদ প্রমুখ।
টাকা আর গরু পেয়ে খুশি ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মোর কষ্ট এবার দূর হইছে ভাই। যারা টাকা ও গরু কিনে দিলেন আল্লায় তাদের মঙ্গল করবেন। আমি সব সময় তাদের জন্য দোয়া করবো। এখন আয় ভাল হবে। ছেলে-মেয়েদেরও লেখাপড়া ভালভাবে চলবে। ’
বিডি

আপনার মতামত লিখুন :